sehri dua bangla - iftar dua bangla

ইসলামিক

 সকল মুসলিম ভাই ও বোনেরা আসসালামু আলাইকুম? সকল মুসলিম ভাইকে রমজান মাসের শুভেচ্ছা। আমরা সকলেই রোজা রাখি, কিন্তু আমরা অনেকেই সেহরি ও ইফতারের দোয়া জানিনা, তো আসুন আমরা দোয়াটা জেনে নিই। এছাড়াও সেহরি ও ইফতার, রোজা ভঙ্গের কারণ, রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত সহ এই কনটেন্টি থেকে রোজার বিস্তারিত আলোচনা জেনে নেই।

image

সূচিপত্র: sehri dua bangla - iftar dua bangla

sehri dua bangla - iftar dua bangla

সেহরির দোয়া: 

 نَوَيْتُ اَنْ اَصُوْمَ غَدَ مِّنْ شَهْرِ رَمَضَنَ الْمُبَارَكِ فَرْضَلَّكَ يَا اَللّٰهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ اسَّمِيْعُ الْعَلِيْم° 

বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু  আন  আছুমা গাদাম, মিন সাহরি  রমাদনাল  মোবারক,  ফারদল্লাকা  ইয়া আল্লাহু, ফাতাকব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যাত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে কবুল করো, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ব জ্ঞানী।

ইফতারের দোয়া:
اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ°

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমিন।

আরো পড়ুন: হজ্জের ফরজ কয়টি - হজ্জের বিস্তারিত আলোচনা

অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনার জন্য আমি রোজা রেখেছি এবং আপনার রিজিকের দ্বারা ইফতার করছি।"  (মুআজ ইবনে যাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস:২৩৫৮)

সেহরি ও ইফতার

সেহরি খাওয়ার সুন্নাত। সেহরি খাওয়াতে বরকত রয়েছে। হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "তোমরা সেহরি খাও। কারণ সেহরির মধ্যে বরকত নিহিত রয়েছে" (মিশকাত)।

হযরত আমর ইবনুল আ'স (রা) হতে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সা) এরশাদ করেন: " আমাদের এ আহলে কিতাবের রোজার মধ্যে তফাৎ হলো সেহরি খাওয়া।" সেহেরির সময় হল শেষ রাত। ফকিহ আবুল লাইস (র) বলেন, সাহরীর সময় হলো রাতের শেষ ষষ্ঠাংশ। সেহরি বিলম্বে খাওয়া সুন্নত। তবে সন্দেহের সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা মাকরুহ। 

অর্থাৎ এমন সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা যে সময় সাহরির সময় আছে কিনা তাতে সন্দেহ জাগে। কোন কোন মানুষ মনে করে আযান না হওয়া পর্যন্ত খাওয়া জায়িয। এটি একটি ভুল ধারণা। সুবহে সাদিক হয়ে গেলে পানাহার জায়িয নয়, আজান হোক বা না হোক এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকা উচিত। কারো কারো ধারণা রোজার নিয়্যাত করার পর সেহরির সময় বাকি থাকলেও আর কোন কিছু খাওয়া উচিত নয়। 

এটি ভুল ধারণা। সুবহে সাদিক হবার পূর্বে পানাহার ইত্যাদি জায়েজ আছে, পূর্বে নিয়্যাত করুন বা না করুক। ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা উত্তম। হাদিসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন: "আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ঐ বান্দাগণ যারা বিলম্ব না করে ইফতার করে।" (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি, খ.-১, পৃ. ৩১১) অর্থাৎ ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে।

আরো পড়ুন: যাকাত কাকে বলে - যাকাত দেওয়ার নিয়ম

অন্য হাদিসে আছে, " সে পর্যন্ত দিন ইসলাম বিজয়ী থাকবে যতদিন মানুষ শীঘ্র ইফতার করবে। কেননা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা বিলম্ব ইফতার করত" (আবু দাউদ) মাগরিব নামাজের পূর্বে ইফতার করা মুস্তাহাব। দোয়া পড়া সুন্নত। 

রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত

হযরত সালমান ফারসী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন : "যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। তবে ওই রোজাদারের সওয়াবে কোন কম করা হবে না।" (সাহাবায়ে কিরাম এ কথা শুনে বলেন) আমরা বললাম , হে আল্লাহর রসুল ! আমরা আমরা সবাই রোজাদারকে ইফতার করাতে সক্ষম নয়। 

রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: " এক চুমুক দুধ বা একটি শুকনো খেজুর অথবা এক ঢোক পানি দাঁড়াও যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে, আল্লাহ তাকে এ পরিমাণ সাওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে পরিতৃপ্তভাবে খানা খাওয়াবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউয (হাউযে কাউসার) হতে এমন পানিও পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্বে তৃষ্ণার্ত হবে না" (মিশকাত)

রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ দুই  প্রকার: ১. যেসব কারণে শুধু কাযা ওয়াজিব হয়। ২. যেসব কারণে কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। 

যেসব কারণে রোজার কাযা ও কাফফারা উভয় ওয়াজিব হয় 

রোজাদার ব্যক্তি ইচ্ছা পূর্বক সহবাস করলে তার উপর কাযা ও কাফফারা উভয় ওয়াজিব হয়। এতে বীর্য নির্গত হওয়া শর্ত নয়। এ ব্যাপারে মহিলাও যদি ইচ্ছুক ও অনুগত থাকে, তবে তার উপরও কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। অনিচ্ছুক মহিলার সাথে জোরপূর্বক সহবাস করা হলে এরূপ মহিলার উপর কেবল কাযা ওয়াজিব হবে। (আলমগিরি)।

আরো পড়ুন: ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস

রোজাদার ব্যক্তি যদি খাদ্যদ্রব্য বা ঔষধ ইচ্ছাপূর্বক গ্রহণ করে, তবে তার উপর কাফফারা ও কাযা ওয়াজিব হবে। অনিচ্ছা পূর্বক খাদ্য বা ওষুধ গ্রহণ করলে তার উপর শুধু কাযা ওয়াজিব হবে। সুতরাং রোজাদার ব্যক্তিটি যদি রুটি, খাদ্যজাত দ্রব্যাধি, ফল-ফলাদি, পানি ও পানিও বস্তু, তেল, দুধ, মিসক, জাফরান বা কর্পূর খেয়ে ফেলে, তবে তার উপর কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। (আলমগিরি)।

সুবহে সাদিক না হওয়ার পূর্ণ বিশ্বাসের উপর কেউ সেহরি খেলো অথচ তখন সুবহে সাদিক হয়ে গিয়েছে অথবা সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্ণ বিশ্বাসের উপর ইফতার করল কিন্তু আসলে তখন সূর্য অস্ত যায়নি। এ অবস্থায় ঐ লোকের উপর কাযা ওয়াজিব হবে, কাফফারা ওয়াজিব হবে না।

সুবহে সাদিক হওয়ার প্রবল ধারণা সত্ত্বেও কেউ সাহারি খেয়ে নিলে তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে। আর সূর্য অস্ত না যাওয়ার প্রবল ধারণা সত্ত্বেও কেউ ইফতার করে ফেললে তার উপর কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। (আলমগিরি)।

একটি রোজা ভেঙ্গে ফেলার পর কেউ যদি এক কাফফারা আদায় করার পূর্বে আরেকটি রোজা ভেঙে ফেলে, তবুও তার উপর একটিমাত্র কাফফারা ওয়াজিব হবে। কেউ যদি দুই রমজানে দুটি রোজা ভঙ্গ করে, তবে তার ওপর প্রতি রোজা ভঙ্গের জন্য একটি করে কাফফারা ওয়াজিব হবে। (আলমগিরি)।

যেসব কারণে শুধু কাযা ওয়াজিব হয়

কামভাবের সাথে কোন মহিলাকে চুম্বন অথবা স্পর্শ করার পর বীর্য নির্গত হলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং কেবলমাত্র ঐ পুরুষের উপর কাজা ওয়াজিব হবে। জোরপূর্ব কেউ খাইয়ে দিলে কিংবা সাবধানতা সত্ত্বেও হঠাৎ কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ফাসিদ হয়ে যাবে এবং এতে কাজা ওয়াজিব হবে। পানিয়ের ব্যাপারে একই হুকুম"  (আলমগিরি, ১ম খন্ড)।

আরো পড়ুন: মুমিন কাকে বলে ঈমানের ফল কি

ঘুমন্ত বা পাগল মহিলার সাথে তার স্বামী সহবাস করলে তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। তবে উল্লেখ্য, পুরুষের উপর কাযা ও কাফফারা উভয় ওয়াজিব হবে। (শামী,আলমগিরি, ১ম খন্ড)।

মুখ দিয়ে, নাক দিয়ে বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে ঔষধ দিলে কিংবা কান দিয়ে ওষুধ ঢাললে রোজা কাযা ওয়াজিব হবে। কানের ভিতর তেলের ফোটা ঢাললে রোজা ভঙ্গ হয় আর পানির ফোটা ঢাললে রোজা ভঙ্গ হয় না। (কুদূরী)।

অনিচ্ছাকৃত মুখ ভরে বুমি হলেও তাতে রোজা ফাসিদ হয় না। মুখ ভরে বমি হলে তা যদি পুনঃ পেটে ঢুকানো হয়, তবে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি এমনিতেই ঢুকে যায়, তবে রোজা হাসিদ হবে না। আর যদি তা ইচ্ছা করে ফিরানো হয়, তবে ইমাম আবু ইউসুফ (র)-এর মতে রোজা ফাসিদ হবে না, এটাই শুদ্ধ মত। যদি ইচ্ছা করে কেউ বমি করে এবং তা মুখভরে হয়, তবে তার রোজা ফাসিদ হয়ে যাবে।

ইচ্ছা করে মুখভরে বমি না করলেও ইমাম মুহাম্মদ (র)-এর মতে রোজা ফাসিদ হয় যাবে। ইমাম আবু ইউসুফ (র)-এর মতে রোজা ফাসিদ হবে না। লোবান ইত্যাদির ধোয়া শুকলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়। হুক্কা পান করলেও রোজা ভঙ্গ হয়। আতর, গোলাপ ইত্যাদি যেগুলোর মধ্যে ধোঁয়া নেই সেগুলোর সুগন্ধি শুকলে রোজা ভঙ্গ হয় না (আলমগিরি, ১ম খন্ড)।

কোন লোক যদি রোজাদারের প্রতি কিছু নিক্ষেপ করে আর তা তার গলায় প্রবেশ করে, তবে এতে রোজা ফাসিল হয়ে যাবে। অনুরূপ গোসলের সময় যদি গলায় পানি ঢোকে এতেও রোজা ফাঁসিদ হয়ে যাবে। দাঁতের ভেতর আটকে থাকা জিনিস খেয়ে ফেললে যদি তা একটি বুট পরিমাণ হয়, তবে রোজা ফাঁসিদ হবে, আর এর চেয়ে ছোট হলে রোজা ফাসিদ হবে না। তবে যদি তা বের করে আবার খেয়ে ফেলে, তবে রোজা ফাসিদ হয়ে যাবে।

রোগের কারণে কোন লোকের মুখ হতে পানি বের হয়ে আবার তা মুখের ভিতর প্রবেশ করে গলায় চলে গেলে তার রোজা ফাসিদ হবে না। দাঁত হতে রক্ত বের হয়ে গলায় চলে গেলে যদি রক্ত হতে থুথু বেশি হয়, তবে রোজার কোন ক্ষতি নেই আর যদি রক্তের পরিমাণ বেশি বা সমান হয় তবে রোজা ফাসিদ হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন: গীবত অর্থ কি-গীবতের বিস্তারিত আলোচনা

বৃষ্টির পানি ও বরফ গলার ভিতর চলে গেলে রোজা ফাসিদ হয়। এক-দুই ফোটা চোখের পানি মুখের ভিতর প্রবেশ করলে রোজা ফাসিদ হয় না। অনেকগুলো মুখের ভেতর জমে গেলে যদি সারা মুখে লবণাক্ততা অনুভব হয় আর তা জমা করে গিলে ফেলে, তবে রোজা ফাসিদ হবে।

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

রোজার কথা ভুলে গিয়ে রোজাদার ব্যক্তি যদি পানাহার করে বা সঙ্গমে লিপ্ত হয়, তাহলে রোজা ভঙ্গ হয় না, রোজা নফল হোক আর ফরজ। এক ব্যক্তি দেখতে পেল এক রোজাদার ব্যক্তি ভুলক্রমে খানা খাচ্ছে। লোকটি যদি এরূপ সবল হয় যে, রাত পর্যন্ত তার পক্ষে রোজা পূর্ণ করা সম্ভব, তবে ঐ রোজাদারকে রোজার কথা স্মরণ করিয়ে না দেয়া মাকরূহ। বয়স বৃদ্ধতার ফলে লোকটি যদি দুর্বল হয়, তবে তাকে স্মরণ করিয়ে না দেয়ার অনুমতি আছে।

কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ার সময় যদি পানি পেটের ভিতর চলে যায় এমতাবস্থায় যদি রোজার কথা স্মরণ না থাকে তবে রোজা ফাসিদ হয় না। আর যদি রোজার কথা স্মরণ থাকে, তবে রোজা ফাসিদ হয়। দাঁতের ফাঁকে বুটের চেয়ে ছোট কিছু থাকলে তা গিলে ফেললে রোজা ফাসিদ হয় না। কুলি করার পর পানির আর্দ্রতা মুখে বাকি থাকলে তা থুথুর সাথে গিলে ফেললে রোজা ফাসিদ হয় না।

যে জিনিস খাদ্যদ্রব্য নয় আর তা হতে সাধারণত বেঁচে থাকা যায় না, যেমন মশা-মাছি ইত্যাদি গলার ভিতরে চলে গেলে রোজা ভঙ্গ হয় না। ধুলোবালি এবং ধোঁয়া গলার ভিতর চলে গেলে তাতে রোজা ভঙ্গ হয় না। এক-দুই ফোটা চোখের পানি মুখে প্রবেশ করলে, মুখমণ্ডলের ঘাম মুখে প্রবেশ করলে অথবা লোমকূপ দিয়ে তেল শরীরের ভিতর প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না। (আলমগিরি, ১ম খন্ড)।

চোখে ওষুধের ফোটা ঢাললে তার স্বাদ গলায় চলে গেলেও রোজা ফাসিদ হয় না তবে দ্রুত থুতু ফেলিয়ে দেওয়াই উত্তম। পানিতে ডুব দেয়ার ফলে কানে পানি প্রবেশ করলে রোজা ফাসিদ হয় না। কেউ পান খেয়ে ভালোভাবে কুলি, গড়গড়া করে মুখ পরিষ্কার করা সত্ত্বেও থুথু লাল থেকে গেলে এতে রোজার কোন ক্ষতি হয় না।

রাতে গোসলের প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও দিনে গোসল করলে রোজার ক্ষতি হয় না। সারাদিনের মধ্যে গোসল না করলেও রোজা ভঙ্গ হবে না, তবে গুনাহগার হবে। স্যালাইন, গ্লকোজ ইনজেকশন বা ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে রক্ত প্রবেশ করানো দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না তবে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রোজা অবস্থায় এজাতীয় ইঞ্জেকশন না দেওয়া উত্তম।

আরো পড়ুন: আমানত কত প্রকার

হাঁপানির ক্ষেত্রে অক্সিজেন ইনহেলার ব্যবহার করা যেতে পারে এতে রোজার কোন ক্ষতি হয় না।

 যেসব কারণে রোজা মাকরূহ হয় এবং যেসব কারণে  হয় না

বিনা ওযরে কোন কিছুর স্বাদ গ্রহণ করা ও চিবানো মাকরুহ। স্বামী যদি বদমেজাজি হয় তাহলে স্ত্রীর জন্য খাদ্যের স্বাদ জিহ্বা দ্বারা পরীক্ষা করে নেওয়া মাকরূহ নয়। অনুরূপভাবে অনন্যোপায় হয়ে শিশুর খাদ্য চিবিয়ে দিলে রোজা মাকরূহ হবে না। তবে বিনা ওযরে চিবিয়ে দিলে মাকরূহ হবে। (মারাফিল ফালাহ)।

ইস্তিন্জার সময় অধিক মাত্রায় পানির ব্যবহার রোজাদারের জন্য মাকরূহ। কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার সময় এমন ভাবে পানি ব্যবহার করা যে পানি ভিতরে প্রবেশ করার আশঙ্কা হয়-এভাবে করা‌ মাকরূহ। পানিতে বায়ু নিঃসরণ করা মাকরূহ। রোজা অবস্থায় ইচ্ছা পূর্বক মুখে থুথু জমা করে তা গিলে ফেলা মাকরূহ। রোজাদার ব্যক্তির জন্য দিনের যে কোন সময় মিস্ওয়াক করা জায়েজ এতে রোজার কোন ক্ষতি হয় না (আলমগীর,খ.১)

চোখে সুরমা লাগানো এবং গোঁফে তেল মাখা রোজাদারের জন্য মাকরূহ নয়। তবে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এরূপ করা রোজাদার-অরোজাদার সবার জন্যই মাকরূহ।এমন ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা যদি না হয়‌ যার ফলে রোজা ভঙ্গ করতে হয়, তবে এরূপ ব্যক্তির জন্য শরীরে শিঙ্গা লাগানো জায়েজ। রোজা ভঙ্গ করার মত দুর্বলতার আশঙ্কা হলে শিঙ্গা লাগানো মাকরূহ। তাই দিনে শিঙ্গা না লাগিয়ে সূর্যাস্তের পরে লাগানো উত্তম (আলমগীরি)।

যদি কোন রোজাদার নিজের ওপর এরূপ আত্মবিশ্বাসী হয় যে চুম্বন করলে বীর্য নির্গত হবে না বা সহবাসের প্রতি আসক্ত হবে না, তবে এরূপ রোজাদারের জন্য চুম্বন করা মাকরূহ নয়; অন্যথায় মাকরূহ (আলমগীরী)। 

অনুরূপ হুকুম হলো স্পর্শ করার। দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলে কোন ক্ষতি নেই। সন্দেহের সময় পর্যন্ত বিলম্ব করে সেহরি খাওয়া মাকরূহ। সাওমে বিসাল মাকরূহ। সাওমে বিসাল হল, সাহরি ও ইফতার গ্রহণ ছাড়া পর্যায়ক্রমে একাধিক দিন রোজা রাখা। তবে সাওমে দাউদি অর্থাৎ একদিন বিরতি দিয়ে একাধিক রোজা রাখা উত্তম (মিশকাত)।

রোজা রেখে কথাবার্তা পরিত্যাগ করা মাকরূহ। স্বামী অসুস্থ, রোজাদার বা অনুপস্থিত না থাকলে তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর নফল রোজা রাখা মাকরূহ (মারাকিল ফালাহ)। রোজায় কষ্ট হলে মুসাফিরের জন্য রোজা রাখা মাকরূহ। কষ্ট না হলে রোজা রাখা উত্তম। হাজ্জব্রত পালনকারী ব্যক্তি ‌ রোজা রাখলে দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা হলে আরাফা ও তার পূর্বের দিনে রোজা রাখা মাকরূহ।

আরো পড়ুন: খালিদ বিন ওয়ালিদ কে ছিলেন

ইমাম আযম আবু হানিফা (র)-এর মতে, রোজা অবস্থায় মুখে পানি নিয়ে বারবার কুলি করা, মাথায় পানি ঢালা এবং ভেজা কাপড় শরীরে জড়িয়ে রাখা মাকরূহ।কয়লা ও মাজন দ্বারা দাঁত মাজা মাকরূহ। মাজনের সামান্য কিছু অংশ গলার ভিতর চলে গেলে রোজা ফাসিদ হয়ে যায়।

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ করা জায়িয

হঠাৎ কেউ এমন অসুস্থ হয়ে পড়ল যে, রোজা রাখলে প্রাণের আশঙ্কা কিংবা রোগবৃদ্ধির আশঙ্কা হলে রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ (হিদায়া খ.১. মারাফিল ফালাহ)।অনুরূপ সাপে দংশন করলে ওষুধ সেবনের জন্য রোজা ভেঙ্গে ফেলা জায়েজ।

গর্ভবতী মহিলা রোজা রাখলে যদি তার নিজের অথবা পেটের সন্তানের মারাত্মক ক্ষতি সংখ্যা হয় তবে রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ।

উপসংহার

আলহামদুলিল্লাহ আমরা এ কনটেন্টি থেকে রোজার বিস্তারিত আলোচনা জানলাম, এই সব বিষয়গুলোকে ভালোভাবে মেনে চলার আল্লাহ আমাদের যেন সকলকে তৌফিক দেন আমিন।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url