নিরাপদ পানি কাকে বলে - বিশুদ্ধ পানি কাকে বলে

নিরাপদ পানি কাকে বলে - বিশুদ্ধ পানি কাকে বলে এবং আমাদের জীবনে পানির কতটা গুরুত্ব সেই সম্পর্কে মূল্যবান আলোচনা থাকছে যেমন: বিশুদ্ধ পানি কি, পানির উৎস, পানি বিশুদ্ধকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি ইত্যাদি। এবং আপনাদের সামনে পানি সম্পর্কে পবিত্র কুরআন থেকে একটি আয়ের উপস্থাপন করব, ইনশাআল্লাহ।

image
নিরাপদ পানি কাকে বলে - বিশুদ্ধ পানি কাকে বলে

পেজ সূচিপত্র : নিরাপদ পানি কাকে বলে - বিশুদ্ধ পানি কাকে বলে

কোরআন, সমস্ত জীব ও প্রাণীর অস্তিতে পানির গুরুত্ব (water)

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পানির গুরুত্ব সংক্ষেপে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দ্বারা এমনিভাবে বর্ণনা করেছেন: সূরা নং ২১, সূরা নাম আম্বিয়া, আয়াত নং: ৩০

اَوَلَمۡ يَرَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ كَانَـتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰهُمَا​ ؕ وَجَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ كُلَّ شَىۡءٍ حَىٍّ​ ؕ اَفَلَا يُؤۡمِنُوۡنَ‏ (٣٠)

(অর্থ) অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশ আর যমীন এক সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে আলাদা করে দিলাম, আর প্রাণ-সম্পন্ন সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?

পানি সম্পর্কে কুরআনে আরো বেশ কিছু জায়গায় আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা আরবির অর্থ এবং শানে নুযুল পড়লে আশ্চর্য হয়ে যাবেন, পানি সম্পর্কে এত মূল্যবান পথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবং আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

পানি (water) সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

পানি সম্পর্কে আলোচনার প্রথমেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ কথাগুলো বলতে চাই। কারণ আপনাদের নিরাপদ পানি বা বিশুদ্ধ পানি সম্পর্কে ধারণা পেতে সহজ হবে।

মানুষের শরীরে ওজনের শতকরা ৬১.৫ ভাগই হচ্ছে পানি। জীবজন্তু ও তরুলতা অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বায়ুর পরে অপরিহার্য করে আল্লাহ তা'আলা পানি সৃষ্টি করেছেন। পানি প্রকৃতিতে তিনটি অবস্থায় থাকে। যেমন: কঠিন অবস্থা (বরফ), তরল (পানি), ও বায়বীয় (মেঘ বা বায়ু/বাষ্প অবস্থা)। ইসলামী শাস্ত্রে পবিত্রতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশই পানির সাথে সম্পর্কিত।

আরো পড়ুন: সকল রোগ থেকে মুক্তির দোয়া

"নবী কারীম (সা) বলেছেন, পানির মধ্যে কোন ময়লা পতিত হলে যদি এর রং, গন্ধ ও স্বাদের পরিবর্তন হয়, তাহলে ঐ পানি অপবিত্র বলে গণ্য হবে।" দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে কতগুলো মারাত্মক রোগ হয় যেমন: আমাশায়, কলেরা, কৃমি, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, পোলিও, ভাইরাসজনিত জন্ডিস ইত্যাদি। সেজন্য আমাদের প্রত্যেকের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার অপরিহার্য।

কোথায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়?

বিভিন্নভাবে আমরা বিশুদ্ধ পানি পেতে পারি। নলকূপের পানি অনেকটা নিরাপদ। নলকূপ পায়খানা হতে ৫০ হাত দূরে হওয়া ভালো এবং নলকূপের চারদিক পাকা করা উত্তম। কুয়া, পুকুর ও নদীর পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করা যায়। যখন কোন মহামারী দেখা দেয়, তখন প্রত্যেকের ঘরে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। ফোটানো পানির সাদ পরিবর্তন হয় তবুও শরীরের জন্য এটা ভালো।

ফিটকিরির ও হ্যালোজেন সাহায্যে বিশুদ্ধ পানি

ফোটানো পানি সব সময় খাওয়া সম্ভব না হলে ফিটকিরির সাহায্যেও পানি বিশুদ্ধ করা যায়। ১০ কেজি পানিতে এক চা চামচ ফিটকিরি দিয়ে চার ঘন্টা রাখলে পানি পরিষ্কার ও জীবন মুক্ত হয়ে যায়। পানিকে বিশুদ্ধ বা জীবাণু মুক্ত করার জন্য হ্যালোজেন ট্যাবলেটও ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিরাপদ পানি কাকে বলে - বিশুদ্ধ পানি কাকে বলে বা বিশুদ্ধ পানি কি ?

  1. যে পানিতে রোগ জীবাণু নেই।
  2. যে পানিতে ধুলা-বালি, ময়লা, কাদা, আবর্জনা, বিভিন্ন বর্জ্য ইত্যাদি নেই।
  3. যে পানিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নেই।
  4. যে পানির রঙের পরিবর্তন হয় না।
  5. যে পানির স্বাদের পরিবর্তন হয় না।
  6. যে পানিতে দুর্গন্ধ হয় না।

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো পানিতে পেলে বুঝবেন এটা নিরাপদ পানি না।

পানির উৎস

প্রাকৃতিক ভাবে পানির উৎস তিনটি

  • বৃষ্টির পানি ( rain water) বিশুদ্ধ পানি।
  • ভূ-গর্ভস্থ পানি ( ground water ) বিশুদ্ধ পানি।
  • সমতলের পানি ( surface water ) সবচেয়ে দূষিত পানি। এই পানি বিশুদ্ধ করা ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নয়। এই পানিকে প্রয়োজনে বিশুদ্ধ করে ব্যবহার করা যেতে পারে

পানি বিশুদ্ধ করণের বিভিন্ন পদ্ধতি

১. ফুটিয়ে, কমপক্ষে ১০মিনিট ফুটন্ত অবস্থায় রেখে পানিকে বিশুদ্ধ করা যেতে পারে।

২. বৃষ্টির পানি, বৃষ্টির পানি পরিষ্কার ও জীবাণু মুক্ত। এই পানি পানি সংগ্রহ করতে পারলে তা পান করা যেতে পারে।

আরো পড়ুন: রক্তশূন্যতার লক্ষণ সমূহ - রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

৩. গভীর নলকূপের পানি ও ঝর্ণার পানি ( springs )

৪. ব্লিচিং পাউডার, ২.৫ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ১০০০ পরিষ্কার করা যায়।

৫. পানি বিশুদ্ধকারী বড়ি বা ক্লোরিন ট্যাবলেট বা হ্যালোজেন ট্যাবলেট দিয়ে, ছোট বড় নানা সাইজের বড়ি বাজারে পাওয়া যায়। তাই শিশির গায়ের নির্দেশাবলি অনুসরণ করুন। ০.৫ গ্রামের এক বড়ি দিয়ে ২০ লিটার পানি বিশুদ্ধ করা যায়। বড়ি দেওয়ার এক ঘন্টা পরেই এই পানি পানযোগ্য হবে।

৬. ফিল্টারের মাধ্যমে বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের পানি বিশুদ্ধ করনের ফিল্টার পাওয়া যায়। এ সমস্ত ফিল্টারের মাধ্যমেও পানি বিশুদ্ধ করা যায়।

বড় আকারের পানি বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতি

আমাদের দেশে অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে পানি বিশুদ্ধ করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।

  • পানিকে জমা করা (storage)
  • ফিল্টার করা (filtration)
  • জীবাণুমুক্ত করা (dis infection)

আমাদের দেশে ওয়াসা (wasa) এই তিনটি প্রয়োগের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করে, বড় টাউনে অনেক জনগোষ্ঠীকে একসাথে পানি সরবরাহ করে থাকে। বড় আকারের পানি বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতি👇

image

ওয়াসা-র পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার ফ্লো চার্ট

শেষ কথা

আশা করি এই কনটেন্টটি আপনাদের পানির সম্পর্কে যথেষ্ট উপকারে আসবে। বিশুদ্ধ পানি পান করুন পানিবাহী রোগ থেকে সুস্থ থাকুন।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url