ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস

এই কনটেন্ট এর মাধ্যমে ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ, এবং ইব্রাহিম আঃ এর পুত্র ইসমাইল আঃ ও মা হাজেরা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকছে এই কনটেন্ট।

image
ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস

পেজ সূচিপত্রঃ ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস

ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস (স্বপ্ন)

একদিন ইব্রাহিম আঃ স্বপ্নে দেখলেন, (হে ইব্রাহিম কোরবানি করুন) তিনি সকালে উঠে ১০০ উট কুরবানী করলেন, আল্লাহর নামে। দ্বিতীয় রাতে পুনরায় স্বপ্নে আদেশ পেলেন, (হে ইব্রাহীম কোরবানি করুন) তিনি ভাবলেন নিশ্চয়ই তার কোরবানিতে কোন ত্রুটি হয়েছে তাই তিনি আবারও একশ উট আল্লাহর নামে কুরবানী করলেন।

আরো পড়ুন: ইব্রাহিম আঃ বিবাহ

এবং তৃতীয়বার স্বপ্ন দেখে আবারও ১০০ উট কোরবানি করলে, আল্লাহ সব কিছুর মালিক এবার নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সন্তুষ্ট হবেন। কিন্তু না ৩০০ উট কোরবানি করার পরও চতুর্থ রাতে তিনি আবার স্বপ্ন দেখলেন, (হে ইব্রাহিম কুরবানী করুন) আপনার সবচেয়ে প্রিয় জন কুরবানী করুন।

ইব্রাহিম আঃ পেরেশান হয়ে ভাবছেন, আল্লাহর পর আমার প্রিয় জন আমার পুত্র ইসমাইল। তবে কি আল্লাহ আমার একমাত্র পুত্রকে কোরবানি দিতে বলছেন?

ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস (ভাবনা)

ইব্রাহিম আঃ ভাবতে ভাবতে নিশ্চিত হলে, হ্যাঁ আল্লাহ পাক আমার পুত্রকেই কোরবানি দিতে বলেছে। আমি আমার সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য জানমাল সমস্ত কিছু বিলিয়ে দিতে (কোরবানি দিতে) প্রস্তুত, কারণ সকল কিছুর মালিক তিনি। আমি ছিলাম নিগৃহীত, নির্যাতিত, নিরাশ্রয়, আল্লাহর কুদরতে অযাচিতভাবে আমি আশ্রয় আবাস ধন সম্পদ স্ত্রী সন্তান ইত্যাদি পেয়েছি।

আরো পড়ুন: সকল রোগ থেকে মুক্তির দোয়া

আল্লাহ-পাক আমাকে মহাশত্রু অত্যাচারী নমরুদের উপর জয়ী করেছেন, তার দিনের তার তাওহীদের বাণী প্রচারের কামিয়াব করেছেন, আমি আল্লাহর নিকট প্রুক্তস শরীফ উত্তরসূরী চেয়েছিলাম, তিনি তাও দান করেছেন।

এক্ষণে তিনি যদি ফিরিয়ে নিতে চান? সকল কিছুর মালিক তিনি, তিনি ইচ্ছে করলে দিতেও পারেন আবার তিনি নিতেও পারেন। কোন শক্তির ক্ষমতা নেই তাকে ঠেকায়? তবে কেন আমি আমার সৃষ্টিকর্তাকে বিমুখ করব?

ইব্রাহিম আঃ এর এই ভাবনায় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। আপনারা ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাসের ঘটনা গুলো যেমন ত্যাগ, ধৈর্য, ঈমান, ইত্যাদি বিষয়গুলো উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন ইনশাল্লাহ বুঝতে পারবেন। আমি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দিকে যাচ্ছি না ঘটনাটি বর্ণনা করে যাচ্ছি।

ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস (প্রস্তুতি)

হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালাম মনে প্রানের প্রস্তুত হলেন, আল্লাহর নামে পুত্রকে কোরবানি দিতে। তিনি রওনা দিলেন মরু পথে স্ত্রী পুত্রের আবাস স্থালে। স্ত্রী তাকে দেখে অত্যাধিক খুশি হয়ে মোবারকবাদ জানালেন। হযরত ইব্রাহিম আঃ বিবি হাজেরাকে বললেন ইসমাইলকে সাজিয়ে দাও, তাকে নিয়ে এক জায়গায় বেড়াতে যাব। বিবি হাজেরা খুশি মনে পুত্রকে পাক-পবিত্র করে সাজিয়ে দিলেন। ইব্রাহিম আলাইহি সালাম খুব চিন্তিত ছিল।

আরো পড়ুন: আল্লাহর ৯৯ নামের ছবি - আল্লাহর নামের পিকচার - allah name pic

চলতে চলতে ইসমাইল পিতাকে বলল, আমরা তো বেড়াতে যাচ্ছি তবে আপনাকে কেন চিন্তিত দেখাচ্ছে? পিতা বললেন হ্যাঁ পত্র আমি খুব চিন্তাযুক্ত আছি, যদি তোমার নিকট থেকে সহযোগিতা না পাই? তোমার সহযোগিতা আমার একান্ত কাম্য। আমি স্বপ্নে আল্লাহর নিকট থেকে অদিষ্ট হয়েছি, আমার সবচেয়ে প্রিয় জনকে কোরবানি দিতে। অনেক ভেবে দেখলাম আল্লাহর পরে দুনিয়াতে তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয়জন, এই ব্যাপারে তুমি কি বলো।

তাওহীদের শিক্ষায় শিক্ষিত ঈমানী শক্তিতে সমৃদ্ধ পুত্র বললেন, মরতে তো একদিন হবেই। আল্লাহ পাক যদি আমার কোরবানি চান তবে এটাতো আমার সৌভাগ্য। আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে দেখতে পাবেন, এ ব্যাপারে নিশ্চয় থেকে অবিলম্বে আপনি আল্লাহর হুকুম তালিম করুন। হযরত ইব্রাহীম আঃ পত্র থেকে আশ্বাস পেয়ে কোরবানির উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের জন্য এগিয়ে গেলেন।

ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস (শয়তানের ধোঁকা)

ইসমাইলকে একা পেয়ে বিতাড়িত শয়তান এসে বলল, ওহে ইসমাইল তোমার পিতা তোমাকে কোরবানি দিতে নিয়ে যাচ্ছে, তুমি এখনই পালাও। ইসমাইল রেগে গিয়ে শয়তানের প্রতি পাথর ছুড়ে বলল, তুই দূর হ মরদুদ শয়তান। স্নেহশীল পিতা আল্লাহর হুকুম পালনে যদি পুত্রকে কোরবানি দেয়, তোর সমস্যা কোথায়? ইসমাইল পিতাকে ডেকে বলল, পিতা আপনি জলদি করুন বিতাড়িত শয়তান আমাদের পিছু লেগেছে, সে আমাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

আল্লাহতে নিবেদিত কি অপূর্ব আত্মত্যাগ? কি দৃঢ় মনোবল? পিতার উপযুক্ত সন্তানই বটে। অবশেষে আঁকাবাঁকা উচু নিচু পাহাড়ি পথ পেরিয়ে তার নির্দিষ্ট স্থানে এসে পৌঁছালেন, পিতা হযরত ইব্রাহিম আঃ বুকে পাথর বেঁধে নিজেকে সংযত করে তৈরি হলেন পুত্রকে কোরবানি করতে।

ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানির ইতিহাস (কোরবানি)

আল্লাহর নামে ধারালো ছুরি চালালেন পুত্রের গলে, কিন্তু কিছুতে একটা পশম কাটতে পারলেন না। বারবার চেষ্টা করি ব্যর্থ হয়ে রাগ করে ছুরিকে দূরে নিক্ষেপ করলেন, ছুরির জবান খুলে গেল। ছুরি বলল, হে ইব্রাহীম আমার প্রতি রাগ করছেন কেন? আল্লাহ আমাকে নিষেধ করেছেন ইসমাইলের গলা না কাটতে। আর আপনাকে হুকুম করেছেন পুত্রের গলায় ছুরি চালাতে? হযরত ইব্রাহিম আঃ ভাবলেন আল্লাহ পাক এর মধ্যে কি রহস্য নিহিত রেখেছেন?

ইসমাইল পিতাকে বললেন পিতা আপনি পুত্র স্নেহে আমার মুখ দেখে ঠিক মত ছুরি চালাতে পারছেন না, তাই ব্যর্থ হচ্ছে। এবার শক্ত হাতে আপনার চোখে পট্টি বেঁধে নিয়ে ছুরি চালান, অবশ্যই কামিয়াব হবেন আর আপনার সমীপে আমার আবেদন রইল, আমার শাহাদাতের পর আমার শোকার্ত দুঃখিনী মাকে আমার সালাম জানাবে।

আরো পড়ুন: মুমিন কাকে বলে ঈমানের ফল কী?

আমার পোশাক পরিচ্ছদ মায়ের কাছে পৌঁছে দিবেন, আমার মৃতদেহ মায়ের আশেপাশে দাফন করবেন। তিনি যেন আমার জামা পোশাক দেখেও সান্তনা পান এবং কবর জিয়ারত করে দোয়া করতে পারেন, আল্লাহ হাফেজ।

হযরত ইব্রাহিম আঃ এবার চোখে ভালো করে কাপড় বেঁধে অতি কষ্টে নিয়ন্ত্রণ করে পুত্রের গলে ছুরি চালালেন আল্লাহ আকবর, আল্লাহ আকবর----- জবেহ হয়ে গেল, পিতা ইব্রাহিম খলিল চোখের কাপড় খুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, অদূরে দাড়ানো প্রান প্রিয় পুত্রের প্রতি। পুত্র দাঁড়িয়ে হাসছে, কৃতজ্ঞতার হাসি। জবেহ হয়েছে একটি হৃষ্টপুষ্ট দুম্বা।

আল্লাহর হুকুমে জিবরাঈল আঃ বেহেশত থেকে একটি দুম্বা এনে ইসমাইলকে সরিয়ে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি সালামের ছুরির নিচে শুইয়ে দিলেন, সেই দুম্বা জবাই হয়েছে।

ইব্রাহিম আঃ কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

আল্লাহ-পাক ইব্রাহিম আঃ কে যত পরীক্ষা করেছেন, তার সবগুলোতেই তিনি উত্তীর্ণ হয়েছে। আল্লাহর হুকুম পালনে পুত্র কে কোরবানি করা সবচেয়ে কঠিনতম পরীক্ষা। আল্লাহর পক্ষ থেকে গায়েবী আওয়াজ হল ইব্রাহিম খলিল, আপনি সফল, আপনি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পৃথিবীতে অন্যান্য নজীর স্থাপন করলেন। আপনি স্বপ্নকে সত্য পরিণত করে দেখিয়ে দিলেন।

আপনি আমি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কতটা নিবেদিত? আমি বান্দার তাকওয়া দেখি, আপনি অপূর্ব ত্যাগ, ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিলেন। আপনি পৃথিবীবাসী মানবসমাজে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন চিরকাল। আল্লাহ-পাক হযরত ইব্রাহিম আঃ এর কোরবানি অমর করে রেখেছেন। প্রতিবছর ৯ই জিলহজ্জ পশু কোরবানির মাধ্যমে। হজ্বের করে কোরবানি ওয়াজিব করেছেন যা বিশ্ব-মুসলিমের উপর বাহাল থাকবে অনাদিকাল।

শয়তান ইসমাইল আঃ এর কাছ থেকে তারানি খেয়ে হাজেরাকে ধোঁকার চেষ্টা এবং (পাথর লিখে)

এদিকে ইসমাইলের তারাকে বিতাড়িত শয়তান মা হাজেরাকে গিয়ে বলল, আপনি কি জানেন? ইব্রাহিম আঃ আপনার পুত্রকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে? মা হাজেরা বললেন, পিতা পুত্রকে কোথায় নিয়ে গিয়েছেন সেটা জানা কি খুবই জরুরী?

শয়তান বলল, তবে শুনুন তিনি আল্লাহকে খুশি করতে আপনার এত কষ্টে লালিত সন্তানকে কোরবানি দিতে নিয়েছেন, মা হাজেরা, বললেন, তুই নিশ্চয়ই ধোঁকাবাজ শয়তান দূর হয়ে যা বলে শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করলেন।

পিতা যদি সৃষ্টিকর্তার হুকুম প্রতিপালনে প্রতিরোধ কোরবানি দেয় সমস্যা কোথায় মরদুদ? এত আমার পুত্রের সৌভাগ্য। শয়তান এখানে সুবিধা করতে না পেরে সরে পরল।

হজ্জে সময় পাথর নিক্ষেপ করা হয়

আল্লাহ-পাক মা হাজেরা ও পুত্র ইসমাইল কর্তৃক শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপ খুব পছন্দ করেছিলেন। তাই প্রতিবছর হজের সময় নির্দিষ্ট স্থানে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে কাকর নিক্ষেপ হজের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। শয়তান সরে গেলে স্নেহময়ী মা উদ্বিগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন, পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতেন।

আরো পড়ুন: সূরা ফাতিহা শানে নুযুল - সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল

কিছুক্ষণের মধ্যে পুত্র ইসমাইল সুস্থ শরীরে হাসিমাখা মুখে মা হাজেরাকে দর্শন দিল। সাথে করে নিয়ে এলো দুম্বার চামড়া ভর্তি একরাশ গোস্ত। মা হাজেরা পুত্রকে দেখতে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে করুণাময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় সেজদায় পতীত হলেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url