সূরা ফাতিহা শানে নুযুল - সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল

ইসলামিক

(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ) আলহামদুলিল্লাহ, আপনারা এই পোস্টেতে সুরা ফাতিহা শানে নুযুল, ও সুরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল সম্পর্কে এবং আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থাকছে আল কোরআন থেকে। সূরা ফাতিহা শানে নুযুল - সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল আরো যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থাকছে সেগুলো জানার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।

image
সূরা ফাতিহা শানে নুযুল - সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল

যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি কখনো সমান হতে পারে? এই পোস্টটি পড়ে আমরা অনেক নেকি অর্জন করব ইনশাআল্লাহ।

পেজ সূচিপত্রঃ সূরা ফাতিহা শানে নুযুল - সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল

সুরা ফাতেহার  যেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু গুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে👇

  • হাম্দঃ‌ حامد ( আল্লাহর প্রশংসা )
  • রাব্বিল আলামীন ( رَبِّ الْعَالَمِينَ )
  • মুমকিন ( ممكن )*
  • মা-লিকি ইয়াউমিদ্দি ( مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ )
  • ইয়া কানা'বুদু ( إِيَّاكَ نَعْبُدُ )
  • ইহ্দি‌নাস সিরা-তাল মুস্তাক্বিম ( اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ )
  • 'সিরাতাল মুস্তাক্বিম'
  • সিরা-তাল্লাযী-না আন্'আমতা আলাইহিম ( صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ )
  • গায়রিল মাগদূবি আলায়হিম ওয়ালদ্দোয়ালিন ( عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ )
  • আ-মীন ( آمين )

সূরা ফাতিহা বাংলা অনুবাদ সহ - সূরা ফাতিহা আরবি লেখা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
যিনি বিচার দিনের মালিক। مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

সূরা ফাতিহার নাম সমূহ, অর্থ

সূরা ফাতিহার নাম সমূহঃ এই সুরার বহু নাম রয়েছে: (১) ফাতিহা, (২) ফাতিহাতুল কিতাব, {কোরআনের ভূমিকা} (৩) উম্মুল কোরআন, {কোরআনের মূল} (৪)  সূরাতুল কানয, {ভাণ্ডার সূরা} (৫) কাফিয়াহ, { প্রচার্যসম্পন্ন} (৬) ওয়াফিয়াহ, {পরিপূর্ণ} (৭) শাফিয়াহ, { আরোগ্যদায়ক} (৮) শেফা, { আরোগ্য} (৯) সাব'ই মাসানী, { সপ্ত প্রশংসা, বারংবার আবৃত্তিযোগ্য সপ্ত আয়াত, } (১০) নূর, { জ্যোতি} (১১) রুক্বাইয়া, { দো'আ তাবিজ} (১২) সূরাতুল হামদ, { প্রশংসা সূরা} (১৩) সুরাতুল দো'আ { প্রার্থনার সূরা} (১৪) তা'লীমুল মাসাআলা, { মাসআলা শিক্ষা} (১৫) সূরাতুল মুনাজাত, { মুনাজাতের সূরা} (১৬) সুরাতুত তাফভীদ, { অর্পণের সূরা} (১৭) সূরাতুস সাওয়াল, { যাঞ্ছার সূরা} (১৮) উম্মুল কিতাব, { কিতাবের মূল} (১৯) ফাতিহাতুল ক্বোরআন,  {ক্বোরআনের সূচনা} (২০) সূরাতুস সালাত, { নামাযের সূরা}।

সূরা ফাতিহা শানে নুযুল

শানে নুযুল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) : এই সূরা মক্কা মুকাররমাহ কিংবা মদিনা মুনাওয়ারাহয় অথবা উভয় পূর্ণময়ী ভূমিতে অবতীর্ণ হয়েছে। হযরত আমর ইবনে শোরাহবীল থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খাদীজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে বললেন, "আমি এক আহ্বান শুনে থাকি, যাতে اقرأ 'ইক্বরা' (আপনি পড়ুন!) বলা হয়।"

ওয়ারক্বাহ ইবনে ? নওফলকে এ সম্পর্কে অবহিত করা হলো। তিনি আরজ করলে, "যখন এই আহবান আসে তখন আপনি স্থিরচিত্রে তার শ্রবন করুন।" এরপর হযরত জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) হুযুর সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হয়ে আরজ করলেন, আপনি বলুন,

আরো পড়ুন: ১১৪ টি সূরা - কুরআনের ১১৪ টি সূরার নাম অর্থসহ

(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ) "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল 'আলামিন।" এ থেকে বোঝা যায় যে, অবতরণের দিক দিয়ে এটাই প্রথম সূরা। কিন্তু অন্যান্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, সর্বপ্রথম "সূরা ইক্বরা" নাযিল হয়েছে। দো'আ বা প্রার্থনার তরীক্বা শিক্ষা দেয়ার জন্য এ সূরার বর্ণনাভঙ্গি বান্দাদের ভাষায়ই এরশাদ হয়েছে।

সূরা ফাতিহার ফজিলত সমূহ

সূরা ফাতিহার ফজিলত সমূহঃ হাদিসসমূহে এ সূরার বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, "তাওরীত, ইনজীল ও যাবুরে এর মত কোন সূরা নাযিল হয়নি" (তিরমিজি শরীফ)

এক ফেরেস্তা আসমা থেকে অবতীর্ণ হয়ে হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম আরয করলেন এবং দুটি 'নূর' -এর সুসংবাদ দিলেন, যা হুযুরের পূর্বে কোন নবীকে প্রদান করা হয়নি। এটা হচ্ছে 'সূরা ফাতিহা', অন্যটা সূরা বাক্বারা'র শেষ আয়াত সমূহ। (মুসলিম শরীফ)

আরো পড়ুন: সকল রোগ থেকে মুক্তির দোয়া (আল কুরআন)

সূরা ফাতিহা ১০০ বার পাঠ করে যে প্রার্থনাই করা হোক, আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। (দারমী শরীফ)

আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম

ইসতি 'আযাহঃ أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম) পাঠ করা

মাসআলাঃ কুরআন তেলাওয়াতের পূর্বে 'আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম' পাঠ করা সুন্নত-(তাফসীর-ই হযিন)। তবে, ছাত্র যখন শিক্ষক থেকে পাঠ করে তখন তার জন্য সুন্নাত নয়। (ফতোয়া-ই শামী) 

মাসআলাঃ নামাযের মধ্যে ইমাম কিংবা একাকী নামাজ আদায়কারীর জন্য 'সানা' (সুবহা-নাকা) পাঠ করার পর নীরবে 'আঊযু বিল্লাহ' 'আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম' পাঠ করা সুন্নত। (শামী)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

তাসমিয়াহঃ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) পাঠ করা

মাসাআলাঃ 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' কোরআন পাকেরই আয়াত; তবে সুরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোন সূরার অংশ নয়। এজন্যই তা ( ক্বিরআতের সাথে ) উচ্চরবে পাঠ করা হয় না। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে যে, হুজুর আক্বাদাস সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং হযরত সিদ্দিক্বে আকবর ও হযরত ফারক্বে আ'যম ( রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা ) ' আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ-লামীন' থেকেই নামাজ (ক্বিরআত) আরম্ভ করতেন। অর্থাৎ সূরা ফাতিহার সাথে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' উচ্চরবে পাঠ করতেন না।

মাসাআলাঃ 'তারাবীহ্‌র নামাজ' - এর মধ্যে যেই খতম আদায় করা হয় তাতে কখনো একবার উচ্চরবে 'বিসমিল্লাহ' অবশ্যই পড়তে হবে, যেন একটা আয়াত বাদ না পড়ে।

মাসাআলাঃ কোরআন শরীফে 'সূরা বারাআত' ( সূরা তাওবা ) ব্যতীত প্রত্যেকটা সূরা 'বিসমিল্লাহ' সহকারে আরম্ভ করতে হয়।

আরো পড়ুন: বারাকাহ অর্থ কি ?

মাসাআলাঃ 'সূরা নামল' - এর মধ্যে সাজদার আয়াতের পর যেই ' বিস্‌মিল্লাহ্‌'র উল্লেখ রয়েছে তা কোন পূর্ণ আয়াত নয়; বরং আয়াতে একটা অংশ মাত্র। সর্বসম্মতভাবে, ঐ আয়াতের সাথে অবশ্যই পড়তে হবে -যেসব নামাজে ক্বিরআত উচ্চরবে পড়া হয় সেসব নামাযে সরবে, আর যেসব নামাযে নীরবে পড়তে হয় সেসব নামাযে নীরবে।

মাসাআলাঃ প্রত্যেক 'মুবাহ' (বৈধ) কাজ 'বিস্‌মিল্লাহ্‌' সহকারে আরম্ভ করা মুস্তাবাহ। ' নাজায়েজ ' বা অবৈধ কাজে প্রারম্ভে বিস্‌মিল্লাহ্‌ পড়া নিষিদ্ধ।

সুরা ফাতেহার বিষয়বস্তু সমূহ

সুরা ফাতেহার বিষয়বস্তু সমূহঃ এই সূরায় আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা, রাবূবিয়াত, রহমত, মালিকানা, ইবাদতের একক উপযুক্ততা, উত্তম কাজের তৌফিক দান, বান্দাদের পথ-নির্দেশনা, আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ, ইবাদতকে একমাত্র তারই জন্য সীমিতকরণ, সাহায্য তাঁরই নিকট প্রার্থনা করা, তাঁরই হিদায়াত তলব ত করা, প্রার্থনার নিয়ম-কানুন, সৎবান্দাদের অবস্থাদির সাথে একান্ততা ঘোষণা করা,  পথভ্রষ্টদের সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা ও তাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করা, প্রার্থীর জীবনের পরিণতি ও প্রতিদান, প্রতিদান-দিবসের বিস্তারিত এবং সমস্ত মাস্আ‌লার সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে।

হাম্দঃ‌ حامد ( আল্লাহর প্রশংসা )

মাসাআলাঃ প্রতিটি কাজের প্রারম্ভে 'তাসমিয়াহ' ( আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা ) - এর ন্যায় হাম্‌দ ( আল্লাহর প্রশংসা ) করা চাই।

মাসাআলাঃ হাম্‌দ কখনো ওয়াজিব; যেমন- জুমু'আর খুৎবায়। কখনো মুস্তাবাহ; যেমন বিবাহের খুৎবায়, দোয়া, প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে শুরুতে এবং প্রত্যেক পানাহারের পর। কখনো সুন্নাতে মোআক্কাদহ ; যেমন আছি আসার পর। (তাহ্তা‌ভী শরিফ)

রাব্বিল আলামীন ( رَبِّ الْعَالَمِينَ )

রাব্বিল আলামীন ( رَبِّ الْعَالَمِينَ ) : এর মধ্য সমস্ত সৃষ্টিজগত যে ক্ষণস্থায়ী, 'মুমকিন'* ও মুখাপেক্ষী আর আল্লাহ তা'আলা যে চিরস্থায়ী, অনাদি, অনন্ত, চিরন্তন, চিরজীবী, তত্বাবধায়ক, সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ-সেসব বিষয়ে ইঙ্গিত রয়েছে; যেসব গুণাবলী আল্লাহ্‌ পাক 'রাব্বুল আলামিন'-এর জন্য অপরিহার্য। এই দুটি মাত্র শব্দের মধ্যে 'ই্‌লম-ই-ইলাহিইয়াৎ' ( খোদাতাত্ত্বিক জ্ঞান ) - এর গুরুত্বপূর্ণ বিষইয়াদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মুমকিন ( ممكن )*

মুমকিন ( ممكن )* : আরবি দর্শন শাস্ত্রের পরিভাষায়, 'মুমকিন' হল - যা সৃষ্টি হবার পূর্বে 'হওয়া' বা 'না হওয়া' উভয়ই সম- সম্ভাবনাময়ন ; কিন্তু তা অস্তিত্ব লাভ করার জন্য অপরের ( অর্থাৎ স্রষ্টার ) মুখপেক্ষি।

মা-লিকি ইয়াউমিদ্দি ( مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ )

আল্লাহ্‌রই মালিকানার পূর্ণ-বিকাশের বর্ণনা এবং একটা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদতের উপযোগী নয়। কেননা, সমস্ত সৃষ্টি হল তারই মামলূক ( মালিকানাধীন ) এবং মামলূক উপাস্য হবার যোগ্য হতে পারে না। এ থেকে জানা যায় যে, দুনিয়া হচ্ছে 'দারুল আমল' বা কর্মক্ষেত্র। আর এর একটা অন্ত বাশেষ রয়েছে। দিচ্ছে এ পরম্পরাকে 'আদি অনন্ত হীন' বলা বাতিল।দুনিয়ার পরিসমাপ্তির পর একটা প্রতিদান - দিবস রয়েছে। এ আয়াত দ্বারা 'তনাসুখ' ( পুনঃজন্মবাদ ) বাতিল বলে প্রমাণিত হলো।

আরো পড়ুন: আকিকার নিয়ম - আকিকার দোয়া

ইয়া কানা'বুদু ( إِيَّاكَ نَعْبُدُ )

ইয়া কানা'বুদু  إِيَّاكَ نَعْبُدُ  : আল্লাহ তাআলার সত্তা ও গুণাবলীর বর্ণনার পর আয়াতের এ অংশটা উল্লেখ করে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, আক্বীদা'ই আমলের পূর্বশর্ত এবং ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা আক্বীদার বিষয়াদি উপর নির্ভরশীল।

মাসাআলাঃ না বুদু ( نَعْبُدُ ) -এর বহুবচন ক্রিয়া পদ দ্বারা ইবাদতকে জামাআত সহকারে ( সম্মিলিতভাবে ) আদায় করার বৈধতা ও বোধগম্য হয়। একথাও বোঝা যায় যে, সাধারণ মুসলমানের ইবাদত আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ইবাদতের সাথে মিলে কবূলিয়াতের মর্যাদা লাভ করে।

মাসাআলাঃ এতে শির্ক প্রত্যাখ্যান হয়েছে। কারণ, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য ইবাদত হতে পারে না।

ইহ্দি‌নাস সিরা-তাল মুস্তাক্বিম ( اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ )

ইহ্দি‌নাস সিরা-তাল মুস্তাক্বিম اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ : আল্লাহ তাআলার সত্তা ও গুণাবলীর পরিচয় এরপর ইবাদত, অতঃপর প্রার্থনার শিক্ষা দিয়েছেন। এ থেকে এ মাসআলা জানা যায় যে, বান্দাদের ইবাদতের পর দোয়া মগ্ন হওয়া উচিত হাদীস শরীফেও নামাজের পর দোয়া বা প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ( তাব্‌রানী ফিল্‌ কবীর ও বায়হাক্বী ফিস সুনান )

'সিরাতাল মুস্তাক্বিম'

'সিরাতাল মুস্তাক্বিম' দ্বারা ইসলাম অথবা ক্বোরআন মাজিদ কিংবা নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামে-এর পূত পবিত্র চরিত্র অথবা হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবার পরিজন (আহলে বায়ত) ও সাহাবা কেরামের কথায় বোঝানো হয়েছে। এ' তে প্রমাণিত হয় যে রিসালাত মুস্তাকিম হল আহলে সুন্নাতেরই অনুসৃত পথ; যারা আহলে বায়াত, সাহাবা কেরাম, কোরআন ও সুন্নাহ এবং বৃহত্তম জামাআত সবাইকে মান্য করেন।

সিরা-তাল্লাযী-না আন্'আমতা আলাইহিম ( صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ )

উপরোক্ত বাক্যেরই তাফ্সী‌র বা ব্যাখ্যা। অর্থাৎ রিসালাত মুস্তাক্বীম দ্বারা মুসলমানদেরই পথ বোঝানো হয়েছে। তাছাড়া, দ্বারা মাস্‌'আলার সমাধানও পাওয়া যায়। অর্থাৎ যে সমস্ত বুযর্গানে দ্বারা আমল রয়েছে তা-ই সিরাতাল মুস্তাক্বিম এর অন্তর্ভুক্ত।

গায়রিল মাগদূবি আলায়হিম ওয়ালদ্দোয়ালিন ( عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ )

এই বাক্যও হিদায়াত রয়েছে। যেমন-

মাসাআলাঃ সত্য - সন্ধানীদের জন্য খোদার দুশমন থেকে দূরে থাকা এবং এদের পথ, কার্যকলাপ, আচার-আচরণ এবং রীতি-নীতি থেকে বিরত থাকা একান্ত আবশ্যক।

তিরমিজি শরীফের রেওয়ায়ত থেকে বোঝা যায় যে, মাগ্‌দূ-বি আলাইহি ( مَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ ) দ্বারা ইহুদি এবং দোয়া-ল্লীন ( ضَّالِّينَ ) দ্বারা খ্রিস্টানদের কথা বোঝানো হয়েছে।

আরো পড়ুন: আল্লাহর ৯৯ টি নাম অর্থসহ

মাসাআলাঃ 'দোয়াদ' ( ض ) 'যোয়া' ( ظ ) - এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কোন কোন বিশিষ্ট অক্ষর দুটির মধ্যে মিল থাকা উভয়কে এক করতে পারে না। কাজেই, ( ظ'  غَيْرِ الْمَغْضُوبِ') দোয়াদ ( ض ) এর জায়গায় যোয়া ( ظ ) সহকারে পাঠ করা যদি ইচ্ছাকৃত হয় তবে তা হবে কোরআন পাকে বিকৃতি সাধন ও 'কুফর' নতুবা না-জায়েয।

মাসাআলাঃ যে ব্যক্তি 'দোয়াদ' ( ض ) এর স্থলে 'যোয়া' ( ظ ) পরে সে ব্যক্তির 'ইমামত' জায়েয্‌ নয়। (মহীতে বুরহানী)

আ-মীন ( آمين )

আ-মীন ( آمين ) : এর অর্থ হচ্ছে- 'এরূপ করো' অথবা 'কবূল করো'!

মাসাআলাঃ এটা ক্বোরআনের শব্দ নয়।

মাসাআলাঃ সূরা ফাতিহা পাঠান্তে - নামাজে ও নামাজের বাইরে আ-মীন ( آمين ) বলা সুন্নত।

শেষ কথা

আলহামদুলিল্লাহ আশা করি আপনাদেরকে সূরা ফাতিহা শানে নুযুল - সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল এবং আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিষ্কার একটি ধারণা দিতে পেরেছি বলে আমি আশাবাদী।

আপনি যদি একটি হরফ শিখে থাকেন তাহলে সেই হরফটি অন্যের কাছে পৌঁছে দিন এটা আপনার আমার আমাদের সকলের দায়িত্ব এতে আমরা উপকৃত হব এবং অন্যরা উপকৃত হবে। আসুন আমরা এই পোস্টটি আমাদের পরিচিতদের কাছে শেয়ার করে ছড়িয়ে দেই। এবং নিজে আমল করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

এক নজরে অনেক কিছু 👉 এখানে ক্লিক করুন

ধন্যবাদ-thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url