কৃষি শিক্ষা - ইসলামের দৃষ্টিতে কৃষি

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

image

পেজ সূচিপত্র : কৃষি শিক্ষা - ইসলামের দৃষ্টিতে কৃষি

ইসলামের দৃষ্টিতে কৃষি

আল্লাহ্পা‌ক মানুষের জন্য পৃথিবীর আনাচে-কানাচে যেসব খাদ্যবস্তু ও প্রাকৃতিক জৈব সম্পদ ছড়িয়ে রেখেছেন সেগুলির আহরণ, প্রতিপালক এবং সংরক্ষণের সাধারণ নাম  কৃষি। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন এবং আহরণের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিভিন্ন জৈব উৎস সঠিকভাবে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টাকে কৃষি নামে অভিহিত করা যায়। প্রধানত কৃষি উন্নতি অবনতির উপর মানব সভ্যতার উন্নতি এবং অবনতি নির্ভর করে। তাই ইসলাম কৃষির উপর অত্যাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

আরো পড়ুন: জমির খাজনা অনলাইন পেমেন্ট করার নিয়ম।

ইসলামের দৃষ্টিতে কৃষক একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং কৃষি নিঃসন্দেহে একটি উত্তম কাজ। যেহেতু আমাদের জনসাধারণ কোরআন এবং হাদিসের আদেশ-নির্দেশকে সব কিছুর উপরই স্থান দিয়ে থাকে, তাই খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে ইসলামের কি আদেশ-নির্দেশ রয়েছে সে সম্পর্কে আপনাদের জ্ঞান অর্জন করা দরকার। 

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা যে ইসলামেরই নির্দেশ সে সম্পর্কে আমরা সচেতন হতে পারলে আমাদের কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণ অভিযান যে আরো জোরদার হবে সে সম্পর্কে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

ইসলামে যে কৃষির উন্নয়নের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেছে তা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়। পবিত্র কোরআনের এমন বহু আয়াত রয়েছে যা অধ্যায়ন করলে বোঝা যায় যে,  কৃষি ইসলামের অনুসারীগণের একটি মৌলিক পেশা। এবং আল্লাহ যে এক, সর্বশক্তিমান ও দয়াশীল তা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে হলে কৃষক বা কৃষি অনুরাগী হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়।

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮৭ জন মুসলমান। কাজেই কোরআন-হাদিসের আলোকে চাষাবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করে গড়ে তোলা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের অন্যতম দায়িত্ব।

কৃষি সম্পর্কে কোরআনের আয়াত

  1. সূরা নাম্বার: ০৬ , সুরার নাম: আন'আম, আয়াত নাম্বার : ১৪১
  2. সূরা নাম্বার: ১৬ , সুরার নাম: নাহল , আয়াত নাম্বার : ১১
  3. সূরা নাম্বার: ১৬ , সুরার নাম: নাহল , আয়াত নাম্বার : ৬৫
  4. সূরা নাম্বার: ২২ , সুরার নাম: হাজ্জ, আয়াত নাম্বার : ৬৩
  5. সূরা নাম্বার: ২৩ , সুরার নাম: মু'মিনুন, আয়াত নাম্বার : ১৮ - ২০
  6. সূরা নাম্বার: ২৭ , সুরার নাম: নাম্‌ল , আয়াত নাম্বার : ৬০
  7. সূরা নাম্বার: ৩২ , সুরার নাম: সাজদাহ, আয়াত নাম্বার : ২৭
  8. সূরা নাম্বার: ৫৫ , সুরার নাম: আর রাহমান, আয়াত নাম্বার : ১০ - ১৩

সূরা নাম্বার: ০৬ , সুরার নাম: আন'আম, আয়াত নাম্বার : ১৪১

۞ وَهُوَ الَّذِىۡۤ اَنۡشَاَ جَنّٰتٍ مَّعۡرُوۡشٰتٍ وَّغَيۡرَ مَعۡرُوۡشٰتٍ وَّالنَّخۡلَ وَالزَّرۡعَ مُخۡتَلِفًا اُكُلُهٗ وَالزَّيۡتُوۡنَ وَالرُّمَّانَ مُتَشَابِهًا وَّغَيۡرَ مُتَشَابِهٍ ​ؕ كُلُوۡا مِنۡ ثَمَرِهٖۤ اِذَاۤ اَثۡمَرَ وَاٰتُوۡا حَقَّهٗ يَوۡمَ حَصَادِهٖ​ ​ۖ وَلَا تُسۡرِفُوۡا​ ؕ اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الۡمُسۡرِفِيۡنَ‏ (١٤١)

আর তিনি (আল্লাহ) যিনি লতাগুল্ম বিশিষ্ট আর লতা-বিশিষ্ট নয় এমন উদ্যানরাজি, খেজুর গাছ ও বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য, একই ধরনের ও আলাদা ধরনের যায়তুন ও ডালিম সৃষ্টি করেছেন। যখন ফল ধরে তখন ফল খাও, আর ফসল তোলার দিন (নির্ধারিত ওশর ও অনির্ধারিত দানের মাধ্যমে) হক আদায় কর, অপচয় করো না, নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (১৪১)

আরো পড়ুন: আনারসের চাষ পদ্ধতি

সূরা নাম্বার: ১৬ , সুরার নাম: নাহল , আয়াত নাম্বার : ১১

يُنۡۢبِتُ لَـكُمۡ بِهِ الزَّرۡعَ وَالزَّيۡتُوۡنَ وَالنَّخِيۡلَ وَالۡاَعۡنَابَ وَمِنۡ كُلِّ الثَّمَرٰتِ​ؕ اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيَةً لِّـقَوۡمٍ يَّتَفَكَّرُوۡنَ‏  (١١)

মানুষ (তার নির্বুদ্ধিতার কারণে কল্যাণকর ভেবে) অকল্যাণ প্রার্থনা করে যেমনভাবে কল্যাণ প্রার্থনা করা উচিত। মানুষ বড়ই তাড়াহুড়াকারী। (১১)

সূরা নাম্বার: ১৬ , সুরার নাম: নাহল , আয়াত নাম্বার : ৬৫

وَاللّٰهُ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحۡيَا بِهِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَا​ؕ اِنَّ فِىۡ ذٰ لِكَ لَاٰيَةً لِّقَوۡمٍ يَّسۡمَعُوۡنَ  (٦٥)

আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তার দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেন। এতে ঐ সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন আছে যারা লক্ষ্য করে শুনে। (৬৫)

সূরা নাম্বার: ২২ , সুরার নাম: হাজ্জ, আয়াত নাম্বার : ৬৩

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً  فَتُصۡبِحُ الۡاَرۡضُ مُخۡضَرَّة ً  ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَطِيۡفٌ خَبِيۡرٌ​ ۚ‏  (٦٣)

তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যার ফলে পৃথিবী সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে যায়, নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্ণদর্শী, সর্ববিষয়ে ওয়াকিফহাল। (৬৩)

সূরা নাম্বার: ২৩ , সুরার নাম: মু'মিনুন, আয়াত নাম্বার : ১৮ - ২০

وَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسۡكَنّٰهُ فِى الۡاَرۡضِ​ۖ وَاِنَّا عَلٰى ذَهَابٍۢ بِهٖ لَقٰدِرُوۡنَ​ ۚ‏ (١٨)

আমি আকাশ থেকে পরিমিত বৃষ্টি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি তা যমীনে সংরক্ষণ করি আর আমি পানিকে সরিয়ে দিতে অবশ্যই সক্ষম। (১৮)

فَاَنۡشَاۡنَا لَـكُمۡ بِهٖ جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِيۡلٍ وَّ اَعۡنَابٍ​ ۘ لَـكُمۡ فِيۡهَا فَوَاكِهُ كَثِيۡرَةٌ وَّمِنۡهَا تَاۡكُلُوۡنَ ۙ‏  (١٩)

অতঃপর আমি তা দিয়ে তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করি, ওতে তোমাদের জন্য আছে পর্যাপ্ত ফল, যাথেকে তোমরা খাও (আর সুখভোগ কর)। (১৯)

وَشَجَرَةً تَخۡرُجُ مِنۡ طُوۡرِ سَيۡنَآءَ تَنۡۢبُتُ بِالدُّهۡنِ وَصِبۡغٍ لِّلۡاٰكِلِيۡنَ‏ (٢٠)

আর (আমি সৃষ্টি করি) এক বৃক্ষ যা সিনাই পর্বতে জন্মে, যাথেকে তেল উৎপন্ন হয়, আর ভক্ষণকারীদের জন্য রসনা তৃপ্তিকর।আর (আমি সৃষ্টি করি) এক বৃক্ষ যা সিনাই পর্বতে জন্মে, যাথেকে তেল উৎপন্ন হয়, আর ভক্ষণকারীদের জন্য রসনা তৃপ্তিকর। (২০)

আরো পড়ুন: আলু চাষ পদ্ধতি

সূরা নাম্বার: ২৭ , সুরার নাম: নাম্‌ল , আয়াত নাম্বার : ৬০

اَمَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَاَنۡزَلَ لَـكُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً​ ۚ فَاَنۡۢبَتۡنَا بِهٖ حَدَآٮِٕقَ ذَاتَ بَهۡجَةٍ​ ۚ مَا كَانَ لَـكُمۡ اَنۡ تُـنۡۢبِتُوۡا شَجَرَهَا ؕ ءَاِلٰـهٌ مَّعَ اللّٰهِ​ ؕ بَلۡ هُمۡ قَوۡمٌ يَّعۡدِلُوۡنَ ؕ‏ (٦٠)

নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমানসমূহ ও পৃথিবী এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম উদ্যানরাজি উদগত করি, তার বৃক্ষাদি উদগত করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ আছে কি? বরং তারা হচ্ছে এক ন্যায়-বিচ্যুত সম্প্রদায়। (৬০)

সূরা নাম্বার: ৩২ , সুরার নাম: সাজদাহ, আয়াত নাম্বার : ২৭

اَوَلَمۡ يَرَوۡا اَنَّا نَسُوۡقُ الۡمَآءَ اِلَى الۡاَرۡضِ الۡجُرُزِ فَنُخۡرِجُ بِهٖ زَرۡعًا تَاۡكُلُ مِنۡهُ اَنۡعَامُهُمۡ وَاَنۡفُسُهُمۡ​ؕ اَفَلَا يُبۡصِرُوۡنَ‏  (٢٧)

তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি উষর ভূমিতে পানি প্রবাহিত ক’রে তা দিয়ে শষ্য উদগত করি যাথেকে তাদের গবাদি পশু ও তারা নিজেরা খাদ্য গ্রহণ করে, তবুও কি তারা লক্ষ্য করবে না? (২৭)

সূরা নাম্বার: ৫৫ , সুরার নাম: আর রাহমান, আয়াত নাম্বার : ১০ - ১৩

وَالۡاَرۡضَ وَضَعَهَا لِلۡاَنَامِۙ‏  (١٠)

আর যমীন- তিনি (তাঁর) প্রাণীকুলের জন্য তাকে করেছেন বিস্তৃত, (১০)

فِيۡهَا فَاكِهَةٌ  ۙ وَّالنَّخۡلُ ذَاتُ الۡاَكۡمَامِ​ ۖ‏  (١١)

এতে আছে নানান ফলমূল, আর খেজুর গাছ যার ফল আবরণে ঢাকা, (১১)

وَالۡحَبُّ ذُو الۡعَصۡفِ وَالرَّيۡحَانُ​ۚ‏ (١٢)

আর খোসা ও ডাটা বিশিষ্ট দানা আর সুগন্ধী গাছ। (১২)

فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ (١٣)

অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (১৩)

কৃষি সম্পর্কে হাদিস

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কৃষি একটি সওয়াবের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যারা ফলের বা শস্যের গাছ লাগায় তারা আল্লাহ পাকের রহমত লাভ করে। আর যারা বিনা প্রয়োজনে এই গাছ নষ্ট করে, তারা আল্লাহ পাকের অসন্তুষ্টির দৃষ্টিতে পড়ে। হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত, হুজুরে পাক (সা) বলে, যখনই কোন মুসলমান গাছ লাগাই বা শস্য রোপন করে এবং এ থেকে মানুষ, পাখি বা পশু তাদের আহার্য গ্রহণ করে তখন ইহা রোপণকারীর পক্ষে একটি সদকা হিসেবে পরিগণিত হয়।

(মুসলিম শরীফ)

মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধে রওয়ানা হওয়ার সময় হযরত আবু বকর (রা) ও হযরত উমর (রা) কঠোরভাবে নির্দেশ দিতেন যেন তারা বিজিতদের কোন শস্যক্ষেত্র নষ্ট না করে। কৃষির উন্নয়ন এবং সংরক্ষণের প্রতি মুসলিম খলীফাগণ সব সময়ই সজাগ ও সচেতন ছিলেন। হযরত আলী, হযরত সা'দ বিন মালিক, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) এবং আরো অনেকে এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ ফসলের উপর কৃষি কাজ করতেন বুখারী শরীফের রেওয়ায়েতে আছে।

অতঃপর মদীনায় এমন এক মুজাহির পরিবারই ছিল না যারা এক তৃতীয়াংশ বা এক চতুর্থাংশ ফসলের বদলে ক্ষেতের কাজ করতেন না। আনসারগণ প্রথম থেকেই বাগান ও কৃষি ক্ষেত্রের মালিক ছিলেন। পরবর্তীকালে মুজাহিদগণও জমি ক্রয় করে প্রত্যক্ষভাবে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন।

আরো পড়ুন: মাটি কাকে বলে কৃষি শিক্ষা

পবিত্র কুরআনে কৃষি কর্মের গুরুত্ব সম্পর্কে অর্থপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) ও তার সাহাবীগণ কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে সাংগঠনিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তার দ্বারা কেবল আরাম নয়; বরং মুসলিম অধ্যুষিত অনারব দেশগুলোর কৃষি ব্যবস্থায়ও চরম উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।

দেশের কোথাও যাতে অনাবাদী জমি পড়ে না থাকে সেজন্য হযরত মুহাম্মদ (সা) যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। যার ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সমস্ত অনাবাদী জমি আবাদ হয়ে গিয়েছিল। হযরত জাবির (রা) হতে বর্ণিত হযরত মুহাম্মদ (সা) ইরশাদ করেন:

যার জমি আছে সে যেন নিজেই উহা চাষ করে। যদি নিজে চাষ করতে না পারে তবে (অনাবাদী না রেখে) কোন প্রতিদান ছাড়াই নিজের ভাইকে যেন দান করে।

(মুসলিম শরীফ)

কৃষিক্ষেত্রে নিয়মিত পানি সরবরাহের সুব্যবস্থা করার জন্য হযরত উমর (রা) এবং সাহাবীগণ খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন। হযরত উমর(রা)-এর খেলাফতকালে সেচ ব্যবস্থার উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ সময় অনেকগুলি খাল এবং পুকুর কাটা হয়।আবশ্যক-বোধে স্থানে স্থানে বাঁধ নির্মাণ করে অনেকগুলি ঝিলেরও সৃষ্টি করা হয়। প্রসঙ্গত বাসরার নহরে আবূ মূসা, নহরে মা-ক্বাল, কূফার নহরে সা'দ, মিসরের নহরে আমিরুল মুমিনীন প্রভৃতির উল্লেখ করা যেতে পারে।

হযরত উমর (রা)-এর আমলে কয়েক হাজার খাল খনন করা হয়। সমগ্র দেশে খাল খনন, বাঁধ নির্মাণ,  পুকুর খনন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে পানি সেচের জন্য হযরত উমর (রা) পৃথক একটি বিভাগের সৃষ্টি করেন।

আল্লামা মাকরিযীর মতে, একমাত্র মিসরেই দীর্ঘ কয়েক বছরব্যাপী এক লক্ষ বিশ হাজার শ্রমিক শুধু এই কাজে নিযুক্ত ছিল। এদের যাবতীয় খরচ ' বায়তুল-মাল তহবিল' হতে বহন করা হতো।

কৃষককে বাদ দিয়ে কৃষির উন্নতি হতে পারে না। তাই হযরত উমর (রা) ভূমির বিলি বন্টনের ব্যাপারে স্থানীয় কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতেন এবং তাদের পরামর্শ ছাড়া এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন না। চাষযোগ্য জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে সেগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য হযরত উমর (রা) বিজিত দেশগুলোতে ভূমি জরিপে ব্যবস্থা করেন। তার খিলাফতের আমলে হযরত উসমান বিন হানিফ ভূমি জরিপের কাজে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেন।

আরো পড়ুন: জমির খাজনা কত টাকা শতক?

কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কেও হযরত মুহাম্মদ (সা) নির্দেশ দিয়েছেন। শস্য পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষেত থেকে শস্য তোলা বা বিক্রয় করা উচিত নয়। হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, আংগুর না পাকা পর্যন্ত এবং খাদ্যশস্য শক্ত না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।

(তিরমিজি ও আবু দাউদ শরীফ)

হযরত আব্দুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন ফল পরিপক্কতা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

(বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা) খেজুর লাল না হতেই এবং শস্য সাদা ও অনিষ্ট হতে রেহায় না পাওয়া পর্যন্ত বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

শেষ কথা

মুসলিম মনীষীগণ ও এ বিষয়ে একমত যে, কৃষককে বাদ দিয়ে দেশ কখনো সুখী সমৃদ্ধশীল হতে পারে না। এ উপমহাদেশের বিখ্যাত আলিম হযরত শাহ অলিউল্লাহ (র) বলেন:

সামান্য কয়েকজন লোকের উপর কৃষি এবং পশু পালনের দায়িত্ব অর্পণ করে দেশের অধিকাংশ লোকই যদি শিল্প-বাণিজ্য এবং রাজনীতি নিয়ে পড়ে থাকে তাহলে দেশবাসীর অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে যাবে।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url