জমির খাজনা কত টাকা শতক

জমির খাজনা সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন: জমির খাজনা কত টাকা শতক, কৃষি জমি, আবাসিক জমি, বাণিজ্যিক জমি, কোন জমির খাজনা কত টাকা শতক এবং বকেয়া বছর গুলোর জমির খাজনা কত টাকা শতক এই সমস্ত তথ্য জানবো।

image

সূচিপত্র: জমির খাজনা কত টাকা শতক

জমির খাজনা সংক্রান্ত সাধারণ তথ্য

আমাদের প্রত্যেককেই সরকারকে নিজ নিজ জমির খাজনা বা দাখিলা প্রদান করতে হয়। দাখিলা বা খাজনা প্রদানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে এই জমির মালিক আপনি। সরকারের প্রধান আয়ের উৎস গুলোর মধ্যে জমির খাজনা আদায় একটি বড় আয়োজন উৎস।

তবে কোন জমির মালিক কে কত টাকা খাজনা পরিশোধ করতে হবে কোন জমির মালিকের খাজনা মুকুট এমনকি খাজনা বকেয়া থাকলে তা কত টাকা হারে জরিমানা গুনতে হয় তা অবশ্যই আমাদের জানা দরকার।

আরো পড়ুন: জমির খাজনা অনলাইন পেমেন্ট করার নিয়ম

আপনাদেরকে জানিয়ে দেই এখন থেকে জমির খাজনা অনলাইনে পরিষদ করার বা খাজনা প্রদান করার সিস্টেম চালু হয়েছে আপনারা ঘরে বসেই বিদ্যুৎ বিলের মত অনলাইনে জমির খাজনা প্রদান করতে পারবেন। সেজন্য আপনাদেরকে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

জমির খাজনা অনলাইন পেমেন্ট

আর সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি দেশের বাইরে থাকলেও বিদেশ থেকেই আপনার জমির কিংবা আপনার কোম্পানি থাকলে কোম্পানির জমির খাজনা বিদেশ থেকে পরিশোধ করতে পারবেন।

দেশ থেকে যেকোনো সহযোগিতায় জন্য এই নাম্বারে 16122 কল করুন  এবং বিদেশ থেকে এই নাম্বারে 8809612316122 সাহায্য নিতে পারবেন এবং জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের জন্য এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করে বিভিন্ন বিষয় এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন।

আরো পড়ুন: জমির খাজনা চেক

আপনি যদি মনে করেন অনলাইনে আমার জমির দাখিলা বা খাজনা প্রদান করব সেজন্য এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার জমির পর প্রদান করতে পারবেন। এই ওয়েবসাইটে আরো পড়ুন সেকশন থেকে কিভাবে অনলাইনে খাজনা পেমেন্ট করতে হয়। আপনার যদি না জেনে থাকেন তাহলে আপনারা জেনে নিতে পারেন।

জমির খাজনা কত টাকা শতক

বাংলাদেশ ভূমি অধিদপ্তর থেকে আমাদের জমির দাখিলা - খাজনা প্রদানের জন্য জমি তিন ভাগে বিভক্ত ১. কৃষি জমি ২. আবাসিক ৩. বাণিজ্যিক।

১. কৃষিজমি আমরা যে জমিগুলো থেকে ফসল উৎপাদন করি এবং ছোট আকারে খামার করে নিজেই শ্রম দিয়ে পরিচালনা করি এই জমিগুলোকে কৃষি জমির অন্তর্ভুক্ত।

পৌরসভার ভিতরে কিংবা বাইরে আপনার যদি ২৫ বিঘার কম জমি থাকে তাহলে আপনাকে কোন খাজনা প্রদান করতে হবে না। আপনার যদি ২৫ বিঘার বেশি জমি পৌরসভার ভিতরে কিংবা বাইরে থাকে তাহলে প্রতি শতকে ২ টাকা হারে খাজনা প্রদান করতে হবে।

২. আবাসিক জমি যেই জমিগুলোতে আমরা দালান নির্মাণ করি বা বসবাস করি এই জমিগুলো আবাসিক জমির অন্তর্ভুক্ত এক কথায় যে জমিগুলো বসবাসের জন্য ব্যবহার করে থাকি।

আবাসিক জমিগুলো পৌরসভার ভিতরে হলে প্রতি শতকে ১৫ টাকা হারে খাজনা প্রদান করতে হয়। এবং পৌরসভার বাইরে হলে প্রতি শতকে ১০ টাকা হারে জমির খাজনা প্রদান করতে হয়।

৩. বাণিজ্যিক জমি আমরা অনেকেই দোকান ঘাট শিল্প কারখানা ইত্যাদি করে থাকি যে জমিগুলোর উপর কল কারখানা ফ্যাক্টরি এই জাতীয় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত জমি গুলো বাণিজ্যিক জমি হিসেবে কর প্রদান করা হয়।

আরো পড়ুন: ইসলামিক দৃষ্টিতে কৃষি কি ধরনের কাজ

বাণিজ্যিক জমি পৌরসভার ভিতরে হলে প্রতি শতকে ৭ টাকা হারে খাজনা প্রদান করতে হয় এবং পৌরসভার বাইরে প্রতি শতকের জন্য ৪০ টাকা হারে খাজনা প্রদান করতে হয়।

এছাড়া কিছু কিছু জমির খাজনা লাগে না যেমন মসজিদ, গির্জা, গরীব, স্থান, মন্দির, ইত্যাদি।

বকেয়া জমির খাজনা কত টাকা শতক

আমাদের জমির খাজনা প্রতিবছর পরিষদ করতে হবে যদি খাজনা পরিষদ না করি তাহলে জরিমানা দিতে হয় সেজন্য আপনার জমি যত টাকা খাজনা আসে সেই খাজনার উপর ভিত্তি করেই জরিমানা হয়ে থাকে চলুন উদাহরণ দিয়ে কয়েকটি বকেয়া খাজনা দেখায়।

আপনার যে জমি হোক আবাদি, আবাসিক, কিংবা বাণিজ্যিক যেই জমি হোক না কেন ধরুন আপনার জমিতে প্রতিবছর ১০০ টাকা খাজনা লাগে উদাহরণস্বরূপ তাহলে আপনার জমিতে প্রতি বছর কত করে টাকা জরিমানা লাগবে চলুন সেটা দেখি।

  • প্রথম বছর ১০০ × ৬.২৫ × ১ = ৬.২৫ টাকা
  • দ্বিতীয় বছর জমির খাজনা ১০০ × ৬.২৫ × ২ = ১২.৫০ টাকা
  • তৃতীয় বছর জমির খাজনা ১০০ × ৬.২৫ × ৩ = ১৮.৭৫ টাকা
  • চতুর্থ বছর জমির খাজনা ১০০ × ৬.২৫ × ৪ = ২৫ টাকা

আশা করি আপনারা গাণিতিক উদাহরণ থেকে বুঝতে পেরেছেন জমির খাজনা কত টাকা বাকি হলে কত টাকা জরিমানা লাগবে।

জমির খাজনা দিতে কি কি কাগজ লাগে

জমির খাজনা দিতে কি কি কাগজ লাগে😲 চিন্তা করবেন না এখন বর্তমানে কোন কাগজ ছাড়াই জমির খাজনা পরিষদ হচ্ছে। আপনাকে ভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরে গিয়ে প্রথমে জমির পাগল ডিজিটাল করে নিতে হবে এরপর থেকে বিদ্যুৎ বিলের মতো মোবাইল থেকেই খাজনা পরিষদ করা যাবে। জমির খাজনা অনলাইনে পেমেন্ট করার জন্য জমির মালিকের কয়েকটি কাগজ লাগবে।

আরো পড়ুন: সার কি? - মাটি পরীক্ষা করার নিয়ম

  • এন আইডি কার্ডের ফটোকপি
  • মোবাইল নাম্বার
  • খতিয়ান
  • মাঠ খসড়া

এই কয়েকটি কাগজ হলেই আপনি ভূমি অফিস গিয়ে ওদের কাছে কিংবা আপনি নিজে একাউন্ট তৈরি করে অনলাইনে জমির খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন।

শেষ কথা

বর্তমানে বাংলাদেশ ভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাজনা পরিষদ পদ্ধতি চালু করেছে। যখন খুশি জমির খাজনা পরিষদ করতে পারবেন এমনকি জমির সংক্রান্ত অনেক তথ্য জানতে পারবেন তাই জমির কাগজ অনলাইন না করলে দ্রুত অনলাইন করে নিন।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url