মাটি কাকে বলে কৃষি শিক্ষা

আপনারা যারা কৃষি শিক্ষা বিষয়ে মাটি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে চান তাদের জন্য সুখবর কারণ এই কনটেন্টটিতে মাটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এবং মাটি কাকে বলে, মাটি কত প্রকার কি কি  সমস্ত  কিছু।

image

আপনি যদি মাটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে চান তাহলে অনুগ্রহ করে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ুন।

পেজ সূচিপত্র: মাটি কাকে বলে কৃষি শিক্ষা

মাটি কাকে বলে / মাটি কিভাবে তৈরি হয় / মাটির পরিচিতি

মৃত্তিকা কৃষি উৎপাদনের প্রোকৃতিক সম্পদ। মাটিতে ফসল ফলে। মাটি থেকে গাছ পুষ্টি সাধন করে। বিভিন্ন গাছে বিভিন্ন রকমের ফুল হয় ফল হয়, মাটিতে গাছের খাদ্য পরিমাণমত থাকলে তাকে উর্বর মাটি বলে। উর্বর মাটিতে ফসল ভালো হয়।

(মাটি কাকে বলে) বা মৃত্তিকা কাকে বলে, পৃথিবীর উপরিভাগে প্রাকৃতিক দ্রব্রোর নরম স্তর যেখানে নিয়মিত বায়ু ও পানি চলাচল করে এবং গাছ ও লতা পাতা পচে ফসল ফলে, তাকে মৃত্তিকা বা মাটি বলে।

(মাটি কিভাবে তৈরি হয়) বহুদিনের প্রভাবে শিলাখণ্ড ক্ষয়ীভূত হয়ে বায়ু ও পানি দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে এই মাটি তৈরি হয়। পৃথিবীর প্রায় তিন ভাগ পানি একভাগ মাটি। এই একভাগ মাটিতে মানুষ বসবাস করে। গোটা বিশ্বে অনেক ধরনের মাটি বা মৃত্তিকা রয়েছে। মাটির ধরন অনুসারে ফসল উৎপাদন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রক্রিয়া / মাটির গঠন / মাটিতে জৈব পদার্থের গুরুত্ব

মাটি একটি প্রাকৃতিক বস্তু। শিলাদ্রব্য ও খনিজ কণার মিশ্রণে জৈব পদার্থের উপস্থিতিতে ফসল চাষের উপযোগী মৃত্তিকা বা মাটি তৈরি হয়। মাটি পরীক্ষা করলে মাটির মধ্যে নিম্নরূপ বস্ত্র পাওয়া যায়:

  • খনিজ দ্রব্য
  • বায়ু
  • পানি
  • জৈব পদার্থ

খনিজ দ্রব্য: এর মধ্যে আছে নুড়ি, পাথর-কণা, বালি-কণা, পলি-কণা ও কর্দম-কণা। মাটিতে খনিজ দ্রব্যের স্বাভাবিক পরিমা ৪০-৪৫%।

বায়ু: মাটিতে শতকরা ২০-২৫ ভাগ বায়ু আছে। মাটিতে বায়ু না থাকলে সেখানে গাছের শিকড় জন্মাতে বা প্রোথিত হতে পারে না।

পানি: মাটিতে শতকরা ২০-২৫ ভাগ পানি থাকে মাটিতে প্রয়োজনীয় পানি না থাকলে সেখানে গাছ ভালোভাবে জন্মায় না।

জৈব পদার্থ: (মাটিতে জৈব পদার্থের গুরুত্ব) মাটিতে কমপক্ষে শতকরা তিনভাগ জৈব পদার্থ থাকা প্রয়োজন। জৈব পদার্থকে মাটির প্রাণ বলা হয়। মাটির জৈব পদার্থের মধ্যে জীবিত প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, শ্যাওলা, ছত্রাক ও এক্টিনোমাইসিটিস থাকে। এ ছাড়া পচা ও আধা পাছা ও জৈব পদার্থ থাকে। মাটিতে জৈব পদার্থ পরিমাণ মত থাকলে সে মাটি উর্বর হয়।

মাটি কাকে বলে কৃষি শিক্ষা (মাটির প্রকার)

সাধারণ কৃষি মাটিতে প্রধানত বালি, পলি ও কর্দমকণার মিশ্রণে তৈরি হয়। বালিকণার আকার বড়, তাই চোখে দেখা যায়। কিন্তু পলিকণার আকার এত ছোট যে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা ২০-৩০ গুন বড় না করলে দেখা যায় না।

আরো পড়ুন: আখ চাষের সময়কাল

কর্দমকণার আরও ছোট যা ইলেকট্রনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না। মাটিতে অঞ্চলভেদে সব বালুকণা, পলিকণা ও কর্দমকণেও পরিমাণের পার্থক্য হয়। ফলে মাটির প্রকার ভিন্ন হয় মাটিতে উপস্থিত বালি, পলি ও কর্দমের পরিমাণের ভিত্তিতে মাটি প্রধানত তিন প্রকার। যথা:

  1. বেলে মাটি: বালির ভাগ বেশি বালিকণা ৭০%।
  2. এঁটেল মাটি: কর্দমকণা + পলিকণা ৬০ %, বালিকণা ৪০ %।
  3. দোআঁশ মাটি: বালিকণা ৫০%, পলিকণা + কর্দমকণা ৫০%।

বেলে মাটির বৈশিষ্ট্য গুলো কি

বেলে মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কম, তবে বেলে মাটিতে বায়ু চলাচলের সুযোগ বেশি। গাছের যে পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন বেলে মাটিতে সে পরিমাণ খাদ্য থাকে না তুলনামূলকভাবে কম খাদ্য থাকে।

তাই  উর্বরতাও কম, এ মাটি বেশিরভাগ সময় শুকনো থাকে। বাতাসের গতি বেড়ে গেলে বেলে মাটিতে ধূলিঝড় সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের নদ-নদীর চরাঞ্চলে বেলে মাটির পরিমাণ বেশি। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা, প্রভৃতি নদ-নদীর নতুন নতুন চরে ব্যাপক এলাকায় বেলে মাটি রয়েছে।

বেলে মাটিতে মিষ্টি আলু , চীনাবাদাম, চীনা, কাউন, তিল, তরমুজ, বাঙ্গি, ফুটি, ক্ষিরা ও কিছু কিছু শাকসবজি উৎপাদন করা যায়। বেলে মাটিতে নিয়মিত জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং সেখানে অন্যান্য ফসলও উৎপাদন করা যায়।

এঁটেল মাঠের বৈশিষ্ট্য

এঁটেল মাটিতে কাঁদার ভাগ বেশি থাকে। এঁটেল মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও খুব বেশি এবং পানির নিকাশ কম। এই মাটি ভিজলে কাদা হয়ে যায়, আবার মাটি শুকালে খুবই শক্ত হয়। শুকনো জমি চাষ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এঁটেল মাটির উর্বরতা খুবই বেশি। বাংলাদেশের নিচু জমি যেমন: বিল-হাওড়ের তলায় এঁটেল মাটির পরিমাণ বেশি। এমন মাটিতে ধানের ফলন খুব ভালো হয়। স্থানীয় ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ খুব লাভজনক।

আরো পড়ুন: কৃষি শিক্ষা - ইসলামের দৃষ্টিতে কৃষ

পানির অভাবে এঁটেল মাটিতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়। হাওর-বিল ছাড়াও মধুপুর, উত্তরাঞ্চলে বরেন্দ্র এলাকা ও পুরাতন মাঝারি নিচু প্লাবন ভূমিতেও এঁটেল মাটি পাওয়া যায়। মধুপুরের লাল মাটিকে মধুপুর কর্দম বলে। এঁটেল মাটিতে জৈব সার প্রয়োগ করলে মাটির অবস্থা ভালো হয়। সেচের সুবিধা থাকলে পলি এঁটেল ও বেলে এঁটেল মাটিতে অন্যান্য ফসল চাষ করা যায়।

দোআঁশ মাটি কাকে বলে / দোআঁশ মাটির বৈশিষ্ট্য

মাটিতে বালি ও পলির পরিমাণ বেশী থাকলে তাকে দোআঁশ মাটি বলে। বাংলাদেশের পলি অঞ্চলে দোআঁশ মাটির এলাকা বেশি। দোআঁশ মাটি বেশি উর্বর হয় এবং এ মাটিতে বহু প্রকার ফসল উৎপাদন করা যায়।

দোআঁশ মাটি আবার প্রধানত তিন প্রকার হতে পারে। যথা:

  1. বেলে-দোআঁশ : বালির ভাগ বেশি।
  2. পলি-দোআঁশ : পলির ভাগ বেশি।
  3. এঁটেল-দোআঁশ : বলি ও কর্দমের ভাগ বেশি। 

বেলে-দোআঁশ মাটির চেয়ে পলি-দোআঁশ ও এঁটেল-দোআঁশ মাটির উর্বর শক্তি বেশি, পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও বেশি। সাধারণত মাঝারি নিচু ও নিচু জমিতে এঁটেল-দোআঁশ মাটি বেশি। সেখানে ভালো ধান উৎপাদন হয়। বন্যা প্লাবিত এলাকায় পলি-দোআঁশ মাটি বেশি পাওয়া যায়। সেখানে অধিকাংশ ফসল ভালো জন্মে।

বাংলাদেশের মাটি / বাংলাদেশের মাটির প্রকারভেদ / বাংলাদেশের মাটি কত প্রকার / বাংলাদেশের মাটি কেমন ইত্যাদি।

বাংলাদেশের মাটি নিয়ে আমাদের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন উকি মারে। কিন্তু এটাই সত্যি যে বাংলাদেশ আকারে ছোট হলেও এখানে বিভিন্ন ধরনের মাঝে রয়েছে😧। গবেষণা ও পরীক্ষা করে এসব মাটির পার্থক্য নির্ণয় করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: সার কি? মাটি পরীক্ষা করার নিয়ম

বাংলাদেশে প্রধান প্রধান মৃত্তিকা অঞ্চল হচ্ছে :

পলিমাটি অঞ্চল :  এর মধ্যে আছে ব্রহ্মপুত্র পলিমাটি, গঙ্গা পলিমাটি, তিস্তা পলিমাটি, ও যমুনা পলিমাটি।

বরেন্দ্র অঞ্চল : প্রধানত রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুরে পাওয়া যায়।

পাহাড়ি অঞ্চল : প্রধানত সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাওয়া যায়।

মধুপুর অঞ্চল : প্রধানত ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় পাওয়া যায়।

লোনা মাটির অঞ্চল : প্রধানত বৃহত্তর নোয়াখালী, বরিশাল পটুয়াখালী ও খুলনায় পাওয়া যায়।

সমুদ্রোউপকূল অঞ্চল : উপকূলবর্তী জেলাসমূহের দক্ষিণাংশ।

শেষ কথা

আশা করি আপনাদেরকে যে তথ্যগুলো প্রদান করা হয়েছে সেই তথ্য থেকে মাটি কাকে বলে, মাটি সম্পর্কে জ্ঞান ও কৃষি শিক্ষা বিষয়ের মাটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। এই তথ্য গুলো একজন স্টুডেন্ট উপকারে আসবেই ইনশাল্লাহ এবং যিনি চাষাবাদ করতে চান তাদের জন্য মাটি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনে সহায়ক।

(আলহামদুলিল্লাহ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url