প্রতিদিন কয়টি চুল গজায়

ছেলেদের লাইফ স্টাইল

আমাদের মাথা থেকে প্রতিদিন চুল পরে, তবে ১০০ থেকে ১২৫ টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের মাথায় প্রতিদিন কয়টি চুল গজায় এ বিষয়ে জানতে সম্পূর্ণ কনটেন্টটি পড়ুন। কেননা চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

image

সূচিপত্র: প্রতিদিন কয়টি চুল গজায় ( hair )

প্রতিদিন কয়টি চুল গজায় - কয়টি চুল পড়ে

কিছু উদাহরণের মধ্য দিয়ে প্রশ্নটি ক্লিয়ার করছি, আপনার মাথা থেকে প্রতিদিন চুল পড়ছে✅। এর জন্য আপনি ভাবছেন, এইভাবে প্রতিদিন চুল পড়লে আমরা খুব শীঘ্রই টাক হয়ে যাব। না, এটা আমাদের ভুল ধারণা।

যেমন গাছের সবগুলো পাতা ঝরে আবার নতুন ভাবে পাতা গজায়। ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের মাথা থেকে প্রতিদিন চুল পড়ে গেলেও নতুন নতুন চুল গজায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইনফরমেশন থেকে জানা যায় একটা চুলের বয়স ২ থেকে ৮ বছর। 

আরো পড়ুন: প্রতিদিন মুখের যত্ন

আমরা যখন শিশু থাকি তখন আমাদের মাথায় খুব কম সংখ্যক চুল থাকে। এবং আস্তে আস্তে আমাদের মাথায় নতুন নতুন চুল গজাতে থাকে এটা আপনারা অনেকেই খেয়াল করেছেন. কিন্তু প্রতিদিন কয়টি চুল গজায় এই সংখ্যাটি নির্দিষ্ট নয়। এবং আমাদের যখন চুলের বয়স হয় তখন ওই চুলটা পড়ে যায়। এবং নতুন ভাবে চুল গজায়। তবে পড়ে/উঠে যাওয়া চুলের জায়গায় নতুন ভাবে চুল গজাতে প্রায় ২ মাস সময় লাগে।

আবার আপনারা হয়তো ভাবছেন আমার মাথায় টাক পড়ে গেছে তাহলে কি? চুল গজাবে, এটা নির্ভর করে আপনার মাথায় কত হেয়ার ফলিক্যাল বেঁচে আছে। মোটকথা ১০০-১২৫ টি চুল পড়তে পারে, কিন্তু প্রতিদিন কয়টি চুল গজায় এটার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা হয়নি কেননা এটা ব্যক্তির ব্যাক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা হয়ে থাকে। আশা করি বিষয়টি স্বচ্ছ ভাবে বুঝতে পেরেছে।

একত্রে চুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো একত্রে দেওয়া হলো এতে আপনাদের বুঝতে সহজ হবে।

  • একটা চুলের বয়স ২ থেকে ৮ বছর হয়ে থাকে
  • ১০০ থেকে ১২৫ টি চুল পড়া স্বাভাবিক{ অতিরিক্ত চুল পড়লে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন}
  • নতুন ভাবে চুল গজাতে প্রায় ২ মাস সময় লাগে
  • একজন মানুষের মাথায় অ্যাভারেজ প্রায় দশ হাজার (+/-) চুল থাকে
  • চুলে কেরাটিন নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি এবং ৯৭% প্রোটিন ও ৩% পানি রয়েছে

এছাড়াও আরো কিছু তথ্য রয়েছে কিভাবে নতুন চুল গজায় সে সম্পর্কে এবং চুলের যত্নে কি কি করনীয় ইত্যাদি।

কিভাবে নতুন চুল গজানো যায়

চুল পড়ার সমস্যা কমবেশি আমাদের সকলেরই আছে, কিন্তু অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণে ধীরে ধীরে আমাদের মাথা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তবে হতাশার কারণ নেই সমস্যা থাকলে সমাধান অবশ্যই মিলবে তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নতুন চুল গজানোর জন্য আপনাকে চুলের যত্ন নিতে হবে।

যেকোন বিষয় যত্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেজন্য অবশ্যই আপনাকে চুলের যত্নবান হতে হবে কেয়ারিং হতে হবে। কিভাবে নতুন চুল গজানো যায় সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

আরো পড়ুন: ব্রণের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো

নতুন চুল গজানোর উপায় খাবার, নিম পাতার ব্যবহার, পেঁয়াজের রস, মেথি, কালোজিরা ও মেথি। এগুলোর মাধ্যমে আপনি চুলপাড়া প্রতিরোধ করতে পারবেন। তবে স্বাভাবিক সংখ্যায় চুল পড়বে এতে দুশ্চিন্তায় কোন কারণ নেই, আপনারা ইতিমধ্যেই এ বিষয়গুলো জেনে গেছেন।

নিম পাতার ব্যবহার

image

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্য নিম পাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে কিন্তু নিম পাতার ব্যবহার করে নতুন চুল গজানো যায়। নিম পাতার ব্যবহারকে ( নতুন চুল গজানোর ঔষধ বা নতুন চুল গজানোর শ্যাম্পু ) বলা যায়। কেননা ঔষধ এবং শ্যাম্পুর মতোই কাজ করে নিম পাতা।

চুলের জন্য নিম পাতা ব্যবহার করার জন্য প্রথমে এক মুঠো+ নিম পাতা গাছ থেকে নামিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন এরপর এক লিটার পানিতে নিমপাতা গুলো দিয়ে গরম করে ফুটিয়ে নিন। সপ্তাহে একদিন করে এভাবে ব্যবহার করতে থাকুন আপনার মাথার ত্বকের ব্যাকটেরিয়া গুলো নিধন করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

পেঁয়াজের রস ব্যবহার

image

পেঁয়াজের রস অনেক ঝাঁঝালো রান্না করার সময় পেঁয়াজ কাটতে কাটতে চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে কিন্তু একটু কষ্ট করলে কেষ্ট মিলে এরকম একটি প্রবাদ আছে। সেজন্য একটু কষ্ট করে এক কাপ মত পেঁয়াজ বেটে নিন এরপর এক মগ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন আশা করা যায় নতুন চুল গজানোর জন্য ভালো ফলাফল পাবেন।

মেথির ব্যবহার

চুলের যত্নে মেশিন গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি কাপে মেথি ভিজিয়ে রাখুন সকালে মেথিগুলো ব্লেন্ড করে নিন এরপর শুকনো চুলে ব্লেন্ড করা মেথি গুলো ভালোভাবে লাগিয়ে নিন, যখন চুলের সঙ্গে লাগানো মেথি গুলো শুকিয়ে যাবে তখন আপনি যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন সে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন।

এবং চুলে মেথির ব্যবহার সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে নিচের আরো পড়ুন সেকশন থেকে জেনে নিতে পারেন।

আরো পড়ুন: চুলে মেথির ব্যবহার

মেথি এবং কালোজিরার ব্যবহার

কালো জিরা বিভিন্ন রোগ ও সমস্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং কালোজিরা বিশেষ কিছু গুণ রয়েছে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন। মেথি এবং কালোজিরা ব্যবহার করে নতুন চুল গজানো যায়।

প্রথমে কালোজিরা এবং মেথিকে রৌদ্রের তাপে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন এরপর ব্লেন্ড করে নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গরম করে নিন। এরপর একদিন পরপর চুলে ব্যবহার করুন, এই প্যাকটি আপনি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কাঁচের বোতলের সংরক্ষণ করতে পারবেন।

উপসংহার

প্রতিদিন কয়টি চুল গজায় এবং কিভাবে নতুন চুল গজানো যায় সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন। আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের কাছে কনটেন্টটি শেয়ার করে সহায়তা করুন।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url