চিকুনগুনিয়া রোগের লক্ষণ

রোগ ও সমস্যা

চিকুনগুনিয়া রোগের আক্রান্ত হলে আমাদেরকে অনেক ভোগান্তি মধ্যে পড়তে হয়। সেজন্য চিকুনগুনিয়া রোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে চিকুনগুনিয়া রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার গুলো একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের জানা দরকার।

image

সূচিপত্র: চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার

চিকুনগুনিয়া কি?

গ্রুপে-এ, আরবো ভাইরাস আর্থ্রোপড বরণ (Arthropod borne) গোত্রের ভাইরাস জনিত রোগ চিকনগুনিয়া। এ রোগের জীবাণুর নাম চিকুনগুনিয়া ভাইরাস। চিকনগুনিয়া অর্থ "Doubling up" বা ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া বা তীব্র মোচড়-জনিত ব্যথা। এই রোগ এডিস, কিউলেক্র, এবং মেনসোনিয়া মশা দিয়ে ছাড়াই। এখন পর্যন্ত চিকনগুনিয়া রোগের কোন ভেকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। চিকুনগুনিয়া রোগীকে অনেকে ''ল্যাংড়া জ্বর' বলে অভিহিত করা থাকে।

আরো পড়ুন: বাতজ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার

বর্ষাকালে এডিশ মশার বংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি থাকে। বর্তমানে চিকনগুনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। চিকুনগুনিয়া হলে আতংকিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; সাধারণ চিকিৎসাতেই চিকনগুনিয়া সেরে যাই।

চিকনগুনিয়া রোগের লক্ষণ - চিকনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ

চিকনগুনিয়া হলে কিছু লক্ষণের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারবো কে চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত। চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির শনাক্ত করার জন্য যে লক্ষণগুলো রোগীর মাঝে লক্ষ্য করব,

  • উচ্চ মাত্রার জ্বরের সাথে প্রচন্ড গিটে গিটে ব্যথা
  • প্রচন্ড মাথা ব্যথা, শরীরে ঠান্ডা অনুভূতি
  • বমি বমি ভাব অথবা বমি
  • চামড়ার লালচে দাগ (র‍্যাশ) মাংসপেশীতে ব্যথা

আরো পড়ুন: রক্তশূন্যতার লক্ষণ সমূহ - রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

একজন রোগীর মাঝে এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলে বোঝা যায় সে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত। কিন্তু আপনারা হতাশ হবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে।

Chikungunya চিকনগুনিয়া হলে করণীয়

আমাদের মাঝে যারা চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে, কিংবা হবে সকলের চিকনগুনিয়া জ্বর বা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে  আমাদের কি করণীয় সেগুলো জেনে থাকা দরকার।

  1. চিকনগুনিয়া সাধারণত এমনিতেই সেরে যায় তবে গিটের ব্যথা কখনো দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে।
  2. রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
  3. চামড়ার লালচে দাগ (র‍্যাশ) এমনিতেই সেরে যায়।
  4. গিটের ব্যথার জন্য গিটের উপরে ম্যাসেজ, কুসুম গরম পানি শেক এবং হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে।
  5. প্রয়োজনে জ্বরের ১-৫ দিনের ভেতর পরীক্ষা করিয়ে নিন।
  6. আতংকিত না হয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

আশা করা যায় চিকুনগুনিয়ার জন্য এই করণীয় গুলো পালন করলে রোগী সুস্থতা লাভ করবে এবং অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে, সচেতনতার বিকল্প নেই। নিচে চিকনগুনিয়া প্রতিরোধের করণীয় গুলো উপস্থাপন করা হলো।

চিকনগুনিয়া প্রতিরোধ - Prevention of chikungunya

চিকনগুনিয়া প্রতিরোধ আপনার হাতে " প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ"

আপনার ঘরে এবং আশেপাশে যে কোন পাত্রে বা যেকোনো জায়গায় জমে থাকা পানি তিন দিন পর পর ফেলে দিলে এডিস মশার লার্ভা মরে যায়। ব্যবহৃত পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণের পাত্রটি ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।

আরো পড়ুন: মশার কামড় থেকে বাঁচার ক্রিম

ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যাক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি টিনের কৌটা, ডাবের খোসা / নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা, নির্মাণাধীন চৌবাচ্চা, ব্যাটারির শেল ইত্যাদিতে এডিস মশা (Aides mosquito) ডিম পাড়ে। তাই অব্যবহৃত পানির পাত্র ধ্বংস অথবা উল্টে রাখতে হবে যাতে পানি না জমে। দিনে অথবা রাত্রে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।

শেষ কথা

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা চিকনগুনিয়া রোগ হলে কখনোই হতাশ হবো না, ইনশাআল্লাহ। এবং পানি জমে থাকার বিষয়ে নিজে সচেতন থাকব, এবং অন্যকে সচেতন করব যেন সচেতনতার অভাবে এডিস মশার জন্ম না হয়। মশা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মশারি, কয়েল, মশা তাড়ানোর ক্রিম ইত্যাদি ব্যবহার করব।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url