বাতজ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার

রোগ ও সমস্যা

সুস্থতা আমাদের সকলের জন্য অনেক বড় একটি নিয়ামত। কিন্তু বাতজ্বর আমাদের সন্তান শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের আক্রমণ করে থাকে। আমরা অনেকেই জানিনা যে এই বাতজ্বরের আক্রমণের ফলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়😪। সেজন্য বাতজ্বরের হাত থেকে বাঁচতে বাতজ্বরের লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা বিষয়ে জানা অতীব জরুরী।

image

সূচিপত্র: বাতজ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং চিকিৎসা

বাতজ্বর কি ?

বাতজ্বর সাধারণত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের রোগ। সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের ছেলে মেয়েদের হয়ে থাকে। হৃৎপিণ্ড, শরীরের হাড়ের সংযোগস্থল বা জয়েন্ট ও স্নায়ুতন্ত্রকে বাতজ্বরে আক্রমণ করে। জয়েন্টে ব্যথা, ফুলা এবং শরীরের জ্বর থাকে বলে এ রোগকে বাতজ্বর বলা হয়।

বাতজ্বর কেন হয় / বাতজ্বরের কারণ

গ্রুপ 'এ' বিটাহিমোলাইটিক স্টেপটোকক্কাই জনিত জীবাণু দিয়ে বাতজ্বর হয়। টনসিলের প্রদাহের সঙ্গে এই রোগের বিশেষ সম্পর্ক আছে। টনসিল প্রদাহের ১-৩ সপ্তাহের মধ্যে বাতজ্বর রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশিত হয়। ঘন বসতিপূর্ণ অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন ভিজে, স্যাঁত স্যাঁতে এলাকায় বাতজ্বরের প্রাদুর্ভাব বেশি। অপুষ্টি, পরিবেশ ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে বাতজ্বর সৃষ্টিতে বিশেষ সহায়ক।

image
গ্রুপ 'এ' বিটাহিমোলাইটিক স্টেপটোকক্কাই জীবাণু

আরো পড়ুন: সিফিলিস রোগের লক্ষণ

বাতজ্বরের লক্ষণ সমূহ

বাতজ্বরের লক্ষণগুলো হঠাৎ অথবা আস্তে আস্তে দেখা দিতে পারে। আবার অনেক সময় উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গের উপস্থিতি থাকলে আমরা বাতজ্বর সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি।

এক নজরে অনেক কিছু 👉 এখানে ক্লিক করুনযা

  1. রোগীর জ্বর হয়, গা ম্যাজ ম্যাজ করে, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়; সমস্ত শরীরে ব্যথা অনুভব হয়।
  2. হাত, পা মাথা অথবা শরীরে অনেক ক্ষেত্রে মৃদু কম্পন দেখা দেয়, যাকে, কোরিয়া (Chorea) বলে।
  3. বুকে পিঠে এক ধরনের লাল চক্রাকার ম্যাপের মতো দেখা দেয়, যাকে ইরিথ্রিমা মার্জিনেটাম বলে। এগুলো অবশ্য খুব তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যায়।
  4. হৃৎপিণ্ড আক্রমণ হতে পারে ও হৃৎকম্পন বৃদ্ধি পায়, হাঁটা-চলায় কষ্ট হয়, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। হাত-পায়ে রস নেমে ফুলে যেতে পারে। অনেক সময় পেটে পানি আসে, এটাও বাতজ্বরের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
  5. মাথার পিছন দিকে,  কনুইয়ের নিচে, হাতের গিটের সামনের ভাগে অথবা হাঁটুর কাছাকাছি হাড়ের গিটের সামনের ভাগে অথবা হাঁটুর কাছাকাছি হাড়ের উপরের গ্রন্থির মত এক ধরনের গোটা দেখা যেতে পারে। এটিও বাতজ্বরের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
  6. জ্বরের সাথে সাথে শরীরের অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টে ব্যথা করে। বিশেষত পায়ের গোড়ালী, হাঁটু, হাতের কনুই, কবজি ফুলে যায়, গরম হয় ও ব্যথা অনুভূতি হয়। প্রথমে একটি বা দুটি অস্থিসন্ধি আক্রমণ হয় এবং অন্যটি আক্রমণ হওয়ায় আগেই আরেকগুলো ভালো হয়ে যায়। এভাবে পর্যায়ক্রমে একটি ভালো হয়তো অন্যটি আক্রমণ হয়। এটি বাতজ্বরের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
image
ব্যথা অনুভূতি - feeling pain

বাতজ্বরের চিকিৎসা

বাতজ্বর একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগে হৃৎপিণ্ডের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বিধায় এই রোগীকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত। কারণ প্রথমে সামান্য গিরা ব্যথা, জ্বর হওয়া এবং নামেমাত্র চিকিৎসায় অথবা কোন চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যায়, ফলে রোগীরাও সহজে ভুলে যায়।

আরো পড়ুন: ইনফ্লুয়েঞ্জা কি - influenza treatment

কিন্তু কিছুদিন পর, কয়েক মাস বা কয়েক বছর পরে হার্টের ভাল্বের বা অন্য অংশে অপরনীয় ক্ষতি সাধন করে ( It licks the joint but bites the hart) তখন আর বিশেষ কিছু করার থাকে না। কিন্তু প্রথম অবস্থায় ঠিকমতো যত্ন নিলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব। বাতজ্বরের চিকিৎসা কয়েকটি পয়েন্ট👇

  • যদি গিট ফোলা, গায়ে ব্যথা, জ্বর বা রোগের প্রকোপ বেশি থাকে, ততদিন পর্যন্ত রোগীকে পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে
  • ইঞ্জেকশন প্রোকেন পেনিসিলিন রোগের প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিদিন ৪ লাখ ইউনিট করে মাংশে একবার মোট ১০ দিন দিতে হবে।
  • ব্যথা যতদিন থাকে ততদিন সলিউবল এসপিরিন খেতে হবে, (১-৪ সপ্তাহ, যতদিন প্রকোপ থাকে)।
image
সলিউবল এসপিরিন

বাতজ্বর প্রতিরোধ

শিশুদের গলা ব্যথা, গায়ের, ব্যথা, টনসিলের প্রদাহ, চুলকানি, পচড়া ইত্যাদির শুরুতেই দ্রুত ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়া উচিত।

যেসব শিশুর একবার বাতজ্বর হয়েছে বা যাদের জন্মগত হৃৎপিণ্ডের রোগ আছে, তাদের দীর্ঘদিন অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অথবা ন্যূনতম ৫ বছর পর্যন্ত পেনিসিলিন নিতে হবে। যেমন: পেনিসিলিন ট্যাবলেট ২৫০ মিলিগ্রাম প্রতি ট্যাবলেট ২ টি করে দিনে ২ বার। ছোটদের ১ টি ট্যাবলেট দিনে ২ বার।

আরো পড়ুন: রক্তশূন্যতার লক্ষণ সমূহ - রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

অথবা ইনজেকশন পেনি এল এ (বেনজাথিন পেনিসিলিন) ১২ লাখ এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ৬ লাখ ইউনিট প্রতি মাসে একবার মাংসপেশিতে দিতে হবে।

শেষ কথা

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা বাতজ্বরের লক্ষণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধ এবং বাতজ্বরের কারণে আমাদের প্রিয় কিশোর কিশোরীদের কি কি ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে সমস্ত কিছুই জেনেছি। আসুন আমরা নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করে। এতে আমরা নিজেরা উপকৃত হব এবং অন্যকে সাহায্য করার কারণে পরকালের জন্য কিছু নেকি অর্জন হবে, ইনশাআল্লাহ।

{বুদ্ধিমান তো সেই যে মৃত্যুকে স্মরণ করে} এবং আল্লাহকে ভালবেসে, একজন মানুষ অন্য মানুষকে সাহায্য করে।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url