গলগন্ড রোগের লক্ষণ

রোগ ও সমস্যা

গলগন্ড  বা (Goiter) রোগ খনিজ লবণ আয়োডিনে এর অভাব জনিত একটি রোগ। আমরা এই কনটেন্টে এ গলগন্ড রোগের লক্ষণ এবং গলগন্ড রোগ সম্পর্কে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো জানবো।

image
গলগন্ড রোগের লক্ষণ

পেইজ সূচিপত্র : গলগন্ড রোগের লক্ষণ

গলগন্ড কাকে বলে ? গলগন্ড রোগ সম্পর্কে কিছু কথা

আগে আমরা গলগন্ড রোগের সাথে পরিচিত হয়। গলার সামনের দিকের থাইরয়েড নামক গ্রন্থির যে কোন ধরনের ফোলাকে গলগন্ড বলে। দেশের কোথাও গলগন্ড রোগকে ঘ্যাগও বলে। দেশের পুষ্টি সমস্যার অন্যতম ভয়াবহ সমস্যা হলো আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা।

আরো পড়ুন: আর্সেনিক কি - আর্সেনিক রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ৩৮.১ জনের শরীরের মধ্যে আয়োডিনের অভাব ধরা পড়েছে। এ সমস্যার কারণে শতকরা ২.৩ জন শিশু মাতৃগর্ভে মারা যায়, শতকরা ২.১ জল শিশু জন্মের এক মাসের মধ্যে মারা যায় এবং শতকরা ১.৪৪ জনকে বিকলাঙ্গ হতে দেখা যায়। গলগন্ড রোগ কিশোর - কিশোরীদের মধ্যেই বেশি। ছেলেদের থেকে মেয়েদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

সমগ্র বাংলাদেশের জন্যই এটা একটা সমস্যা। তবে রংপুর, জামালপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরের অঞ্চলগুলোতে গলগন্ড রোগের প্রকোপ সব থেকে বেশি।

গলগন্ড রোগের কারণ - আয়োডিনের অভাবে কি রোগ হয়?

আপনি গলগন্ড রোগের কারণ বুঝতে পারলে, গলগন্ড সম্পর্কে ধারণাটি আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। গলার সামনে থাকে থাইরয়েড নামক গ্রন্থি। এই গ্রন্থি এক ধরনের রস হরমোন নিঃসরণ করে, যার নাম থাইরয়েড হরমোন। এই হরমোন তৈরিতে আয়োডিন নামক খনিজ পদার্থের প্রয়োজন হয়।

আরো পড়ুন: নিরাপদ পানি কাকে বলে - বিশুদ্ধ পানি কাকে বলে

শরীরে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরয়েড হরমোন তৈরি না হওয়ার ফলে গ্রন্থি থেকে থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হতে পারে না, ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় আর এই ফোলাই হচ্ছে গলগন্ড।

আয়োডিনের অভাব কিভাবে হয় - গলগন্ড রোগের লক্ষণ

আয়োডিনের উৎস হলো সমুদ্র এবং সমুদ্র থেকে পাওয়া খাদ্য। সমুদ্র থেকে প্রতিদিন সূর্যের তাপে আয়োডিন বাতাসে উঠে আসছে এবং মেঘ হয়ে বৃষ্টির সাথে মাটিতে পড়ে মাটিকে আয়োডিন সমৃদ্ধ করছে। এই মাটি থেকে উৎপাদিত শাক-সবজি, ফলমূল, পানি ও খাদ্য এবং এই খাদ্য গ্রহণকারী পশু-পাখি থেকে পাওয়া খাদ্য যেমন দুধ ও গোস্ত ইত্যাদি থেকে আমরা আয়োডিন পেয়ে থাকি।

যে মাটির বয়স পুরাতন এবং যে মাটিতে যত কম ক্ষয় হয়, সেই মাটি তত বেশি আয়োডিন সমৃদ্ধ। মাটির উপরে স্তরে আয়োডিন থাকে এবং বৃষ্টি বা বন্যার ফলে আয়োডিন ধুয়ে গেলে সে অঞ্চলের মানুষের মধ্যে গলগন্ড সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এ ছাড়া সমুদ্র থেকে দূরত্ব যত বেশি বাড়ে, তত সে সকল অঞ্চলে মাটিতে আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়।

আরো পড়ুন: রক্তশূন্যতার লক্ষণ সমূহ - রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

ফলশ্রুতিতে এই সকল অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা বেশি দেখা দেয়। আমাদের দেশের উত্তর অঞ্চল সমুদ্রের তীর থেকে অনেক অনেক দূরে। নদীর অববাহিকাতে অবস্থিত এমন অঞ্চলের মাটির উপরের স্থর সহজেই ধুয়ে যায়। ফলে আয়োডিনের অভাব থাকার কারণে এই সমস্ত এলাকার মানুষের মধ্যে গলগন্ড রোগের সমস্যা বেশি।

পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যেও গলগন্ড রোগ প্রচুর। এবং মিষ্টি আলু , পেঁয়াজ, বাঁধাকপি, ও কচি বাঁশের গজিয়ে ওঠা অংশের মধ্যে গলগন্ড রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন উপাদান থাকে। ফলে যাদের গলগন্ড আছে তাদের এই সকল খাদ্য না খাওয়া উত্তম।

আয়োডিনের অভাবে থেকে যে সমস্যাগুলো জন্ম নেয় (সমস্ত পয়েন্ট)

নবজাতকের সমস্যা

  1. মৃত শিশু জন্মের হার বেড়ে যায়।
  2. জন্ম ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম হয়।
  3. মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধির ব্যাহত হয়।
  4. শিশু বিকলাঙ্গ হতে পারে।
  5. শিশু কালো ও কুৎসিত হতে পারে ও সুন্দর হয় না।
  6. হাবা-গোবা হয়।

শিশু ও কিশোরদের সমস্যা

  1. চোখ টেরা - Squint হয় এবং বোবা ও বধির হয়।
  2. গলগন্ড রোগী শিশুর পড়াশোনার ফলাফল ভালো হয় না
  3. শিশুর জন্মের সময়ে ব্রেনের পরিমাণ পূর্ণবয়স্কের এক-তৃতীয়াংশ থাকে। আয়োডিনের অভাবে ব্রেনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশুদের বৃদ্ধি কম হয় বা বামন হয়।

আরো পড়ুন: সকল রোগ থেকে মুক্তির দোয়া

বড়দের সমস্যা

  1. ব্রেনের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়।
  2. কাজে কর্মে অনীহা দেখা দেয়, উদ্যাম কমে যায়।
  3. মানব সম্পদ উন্নয়নে এরা বড় বাধা হয়ে দেখা দেয়।
  4. বুদ্ধি কম থাকে, ফলে বুদ্ধির কাজ করতে এরা ব্যর্থ হয়।
  5. দেখা গেছে এদের রোজগার কম হয় এবং জীবন যাত্রার মান খারাপ হয়।

আয়োডিন সমস্যা নিয়ন্ত্রণে বাধা সমূহ

  1. স্বাস্থ্য শিক্ষা, পুষ্টিমান ও সচেতনতার অভাব।
  2. সমগ্র জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার প্রচেষ্টা কম।
  3. জনগণ জানে না আয়োডিনের অভাবগ্রস্তদের আয়ু কম, বৃদ্ধি কম, বুদ্ধি কম এবং ভালো থাকার হার কম।

আয়োডিনের উৎস কি ? এবং আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা সমাধানের জন্য যা যা করা দরকার

আয়োডিনের উৎস

  • দুধ
  • শাক-সবজি
  • সামুদ্রিক মাছ
  • আয়োডিন-যুক্ত লবণ

সবাইকে আয়োডিন-যুক্ত লবণ খেতে হবে। দেশের সকল খাদ্য লবণ আয়োডিন-যুক্ত করতে হবে। যে সকল এলাকাতে গলগন্ড রোগের লক্ষণ খুব বেশি, সেখানে লিপিওডল ইনজেকশন দেয়ার যে সরকারি কর্মসূচি আছে, তা গ্রহণ করতে হবে এবং আয়োডিন-যুক্ত লবণ খেতে হবে।

শেষ কথা

আশা করি আপনারা গলগন্ড রোগের লক্ষণ, কারণ, সমস্যা, প্রতিকার, আয়োডিনের উৎস, ইত্যাদি সম্পর্কে যেই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে আপনাদের কল্যাণে আসবে ইনশাআল্লাহ। এবং প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন আয়োডিন-যুক্ত লবণ গ্রহণ করতে।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url